প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

বাঁশখালী সদর উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের গন্ডামারা, পূর্ব বারাঘোনা ও পশ্চিম বারাঘোনা গ্রামে বাংলাদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (উদ্যোক্তা) এর যৌথ মালিকানায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভিন্ন সময়ে গুলি ও হতাহতের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ৬টি মানবাধিকার সংগঠন বেলা, এএলআরডি, ব্লাস্ট, নিজেরা করি, সেফটি এ্যান্ড রাইটস সোসাইটি ও আসক, হাইকোর্টে দুটি পৃথক জনস্বার্থমূলক মামলা (নং-৪৪৬২/২০২১ ও ৪৩৩৩/২০২১) দায়ের করে। মামলা দুটিতে পুলিশের গুলি বর্ষণের ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্তে কমিটি গঠন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, শ্রমিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও চিকিৎসা বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট এবং আহত ও নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

মামলা দুটির বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে – সচিব, বদ্যিুৎ, জ্বালানি ও খনজি সম্পদ মন্ত্রণালয়; সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়; সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বাঁশখালী পুলিশ স্টেশন, চট্টগ্রাম; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএস পাওয়ার ওয়ান এবং এসএস পাওয়ার টু লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস আলম গ্রুপ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক; সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন; ব্যবস্থাপনা পরিচালক , এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড।

রীট আবেদনকারীরা আবেদনে উল্লেখ করেন যে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে মালিকপক্ষের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের গুলিতে ৪ এপ্রিল, ২০১৬ সালে ৪ জন এবং ২০১৭ সালে ১ ফেব্রুয়ারি ১ জন গ্রামবাসী মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে নিরীহ/নিরস্ত্র গ্রামবাসী হত্যাকান্ডের কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। বরং পুলিশ সকল সময় উদ্যোক্তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বরাবরই নিরীহ/নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ও হত্যা এবং গুরুতরভাবে জখম করেছে। উপরোল্লিখিত দমন পীড়নের ধারাবাহিকতায় বিগত ১৭ এপ্রিল, ২০২১-এ আইনসিদ্ধ দাবি আদায়ে সমাবেশরত নিরীহ/নিরস্ত্র শ্রমিকদের উপরে পুলিশের গুলিবর্ষনে আবারও এ পর্যন্ত ৭টি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উল্লেখিত ৩টি ঘটনাতেই পুলিশ অজ্ঞাতনামা বহু সংখ্যক শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। উক্ত কোন ঘটনার পরেই মালিকপক্ষ নিহত শ্রমিকদের কোন ক্ষতিপূরণ এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা খরচ প্রদান করেনি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া দমনে, বিনা উস্কানীতে পুলিশের এমন গুলিবর্ষন ন্যাক্কারজনক এবং তা পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। যেখানে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কাজ, সেখানে এমন নির্মম ও অবিবেচনাপ্রসূত হত্যাকা- গর্হিত অপরাধ, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অনাচারের শামিল। গণতান্ত্রিক দেশে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ সংবিধান, শ্রম আইন, পরিবেশ অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

রীট আবেদনকারী, এস আলম গ্রুপ এবং রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে  বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও  বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীর এর সমন্বয়ে গঠিত মহামান্য হাইকোর্ট বেঞ্চ (আজ ৪ মে, ২০২১) গ্রামবাসী ও শ্রমিক নিরাপত্তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপক্ষকে কেন ব্যর্থ ঘোষণা করা হবেনা এবং কেন গ্রামবাসী ও শ্রমিকের নিরাপত্তা প্রদানে ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকারকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। আদালত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, শ্রমিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও চিকিৎসা বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। একইসাথে, প্রত্যেক নিহত শ্রমিককে অনতিবিলম্বে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানে এবং সকল আহত শ্রমিককে চিকিৎসার পূর্ণ ব্যয় বহনে এস আলম গ্রুপকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং তদন্তের নামে শ্রমিকদের হয়রানি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশও প্রদান করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস এ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, সেফটি এ্যান্ড রাইটস সোসাইটি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং আসক এর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেড আই খান পান্না এবং সৈয়দা নাসরিন।