গত ২৯ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকায় ‘বাদি চেনে না আসামিদের’, ২৮ এপ্রিল দৈনিক ইনানীতে ‘চকরিয়ায় আদরের এই অমানবিক কান্ড’সহ আরো বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদগুলোর একেবারেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন, একপেশে, বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক ও রহস্যজনক বটে। তাই উক্ত পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি ঘৃণা জানাচ্ছি।

প্রকৃত বিষয় হচ্ছে গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে রিংভং এলাকায় বনবিভাগের মালিকানাধীন আরএস ৬৫ নম্বর খতিয়ানের আরএস ২১৩ দাগের ৩০ একর চিংড়ি চাষের জমির দখল জবর-দখলের চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় বনবিভাগের হেডম্যান হিসেবে আমার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা উপর্যপুরি গুলি করে আমাদের ওপর। এ সময় যুবলীগ নেতাসহ ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে এ ঘটনায় ২ এপ্রিল চকরিয়া থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করি। ঘটনার সময় যারা ওই চিংড়ি প্রকল্প জবর-দখল করতে যায় তাদের সবাই পরিচিত ছিল বিধায় তাদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা রুজু করতে সচেষ্ট হই।

প্রসঙ্গত- ঘটনার খবর পেয়ে ওইসময় পুলিশ অকুস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায়।

উক্ত জমি নিয়ে ১৯৯৮ সালে অপর-৯৪/৯৮ নম্বর মামলা জেলা প্রশাসক কক্সবাজারসহ ৪৩ জনকে বিবাদী করে দায়ের করিলে উক্ত মামলায় ৩/৫/১৯৯৯ ইং তারিখে ও ২০/৪/২০০০ ইং তারিখে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং মামলাটি বর্তমানেও কক্সবাজার যুগ্ন জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে চলমান রয়েছে। মামলাটি রুজু করেছিলেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় বনকর্মকর্তা।

সশস্ত্রভাবে চিংড়িজমি জবর-দখলের চেষ্টার ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত মামলার (জিআর-১৩৪/২০২১) এজাহারনামীয় প্রত্যেক আসামী আমি বাদীসহ সবার পরিচিত। তাই সবার নাম উল্লেখ করে মামলাটি রুজু করা হয়। কিন্তু আমি আসামীকে চিনি না বলে বিভিন্ন পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেসব সংবাদের কোন ভিত্তি বা বস্তুনিষ্টতা নেই। আসামীগণ বিগত ২/৪/২০২১ইং তারিখ সকাল ৯ ঘটিকার সময় রিংভং ছগিরশাহ কাটা লামার দোকানের স্টেশনে আসামীগণ ও তাদের নারী সদস্যরা প্রকাশ্যে ধারালো দা, কিরিচসহ দিনদুপুরে মুন্সী সরওয়ার আলমকে জবাই করিয়া হত্যা করিবে মর্মে আস্ফালন করে। স্থানীয় দোকানদারসহ বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনা দেখিয়াছেন।

সংবাদের একাংশে হাসানুল ইসলাম আদরকেও জড়িয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মামলা রুজুর ক্ষেত্রে আদরের কোন সহায়তা আমি নিইনাই। আমি যেহেতু বনবিভাগের একজন ভিলেজার সেহেতু বনবিভাগের মালিকানাধীন সম্পত্তি রক্ষার্থে বনবিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তারাই এই মামলা রুজুর পেছনে ভূমিকা রেখেছেন।

উল্লেখ্য, এই মামলার এজাহারনামীয় আসামী কাছিম আলীর বিরুদ্ধে পূর্বের জিআর- ১৮৪/১৩, জিআর- ৩৪১/১৭, জিআর- ৩৬৬/২০, জিআর- ৪৮৩/২০২১, আসামী আরাফাত ও ইদ্রিসের বিরুদ্ধে জিআর- ৩৬৬/২০, জিআর- ৪৮৩/২০, আসামী সাজ্জাদ হোসেন ও রব্বত আলীর বিরুদ্ধে সিআর- ৫৫/২০২১ চাঁদাবাজি, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বন মামলা ১৭৯/১৩, বন-১৪৩/১৩, বন- ১৪৬/১৪, বন- ১৯০/১৩সহ অসংখ্য বন মামলা ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি রয়েছে। অন্যান্য আসামীগণের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
অতএব প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমার দায়েরকৃত মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে চকরিয়া থানার ওসির জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

প্রতিবাদকারী
হেডম্যান নুরুল আমিন (বাদী)
পিতা- মৃত সাহাব মিয়া,
মো. সরওয়ার আলম, পিতা- হাজি খলিলুর রহমান
উভয়সাং- রিংভং ছগিরশাহকাটা, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •