বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা উহ্লা মং মারমা চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন । তিনি এখনো সুস্থ হননি। বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ডান চোখ এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার রাতে রুমা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় নিজ দলের অপর এক নেতা সাইলুকথান বম এর হামলার শিকার হন তিনি। এসময় চেয়ারম্যানকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছে আরো দুইজন। এই ঘটনার পর প্রতিদিন এলাকার অসংখ্য মানুষ চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমাকে দেখতে সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন।

রবিবার দুপুরে বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় রুমা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা তাদের প্রিয় চেয়ারম্যানকে দেখতে এসেছেন। এসময় তারা বর্বরোচিত এই হামলার জন্য দোষী ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিসহ বিচার দাবী করেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ১নং রুমের একটি সিটে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন। ডান চোখের নিচে নীলা ফোলা জখমের কারণে পুরো চোখ লাল হয়ে গেছে। পিট ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন। এসময় কথা হলে তিনি জানান, সদর হাসপাতালে শারির চিকিৎসার পাশাপাশি চোক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়ায় ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনি আরো জানান- সম্প্রীতির রুমায় গণতান্ত্রিকভাবে যেকেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। মানুষের উপর হামলা, অন্যের সমালোচনা ও প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে এলাকাকে যারা উত্তপ্ত করেছেন দল এবং এলাকার জনগণ তাদের বিরুদ্ধে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন।

এদিকে হামলার পর তিনদিন অতিবাহিত হলেও কাউকে আটক কিংবা থানায় মামলা হয়নি। এবিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন- হামলার বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মিমাংস হওয়ার কথা ছিল। আর অভিযোগ না পেলে কারো বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নেবো।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভয়েস রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা জানতে গিয়ে গত শুক্রবার (২৩এপ্রিল) রাতে চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা হামলার শিকার হন। আর হামলার জন্য তিনি পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সাইলুকথান বমকে দায়ী করে আসছেন। যদিওবা হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন সাইলুকথাম বম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •