আছে মৃত্যু ভয় : তবুও অপ্রতিরোধ্য ১৭০ স্বেচ্ছাসেবী

এম.এ আজিজ রাসেল :
আছে মৃত্যু ভয়। তবুও অপ্রতিরোধ্য তাঁরা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পথ—প্রান্তর ও মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছে অকুতোভয় ১৭০ জন স্বেচ্ছাসেবী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পর্যটন শহরে মানুষের সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছে তাঁরা। তারমধ্যে ৫০ জন কন্ট্রাক ট্রেসিং ও ১২০ জন লকডাউন বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে।

জানা যায়, দেশে মহামারির শুরু থেকেই জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে কাজ করছে পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক টিম। এই টিমের নিরলস পরিশ্রমে গেলবার করোনা সংক্রমণের হার শূন্যের কোটায় চলে আসে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রাস্তায় মানুষের ঢল আর যানজট অনেকটা আগের মতো। খুব কম মানুষ মাস্ক পরে রাস্তায় বের হচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে। কাঁচাবাজার শুধু নয়, অফিস ও ব্যাংক পাড়াতেও পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যাচ্ছে না। মানুষ অনেকটা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলাফেরা—যাতায়াত করছে।

তাই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আবারও মাঠে নামে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ১৭০জন স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক টিম। কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও কন্ট্রাক ট্রেসিং কমিটির সমন্বয়ক মো. নজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের টেস্টের মাধ্যমে ডাটা তৈরি করা, এই ডাটা মোতাবেক আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে কন্ট্রাক ট্রেসিং টিমের ৫০জন চৌকস সদস্য। পাশাপাশি প্রতি ওয়ার্ডে ১০জন করে মোট ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে।

পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহেদ আলী বললেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা (স্বেচ্ছাসেবক) ২১ এপ্রিল সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন। পালা করে দিন—রাত পাহারা দিচ্ছেন। লকডাউন বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে নিজেই করোনা আক্রান্ত হন কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও কন্ট্রাক ট্রেসিং কমিটির সমন্বয়ক মো. নজিবুল ইসলাম।
এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, পুরো বিশ^ এখন ক্রান্তিকাল সময় পার করছে। এই মুহুর্তে মানুষের সেবা করাই মুখ্য বিষয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থানীয় প্রশাসন, দলের নির্দেশনা মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবায় কাজ করছে পৌর আওয়ামী লীগের ১৭০ স্বেচ্ছাসেবক। তারমধ্যে ৫০ জন কন্টাক ট্রেসিং বিভাগে নিয়োজিত রয়েছে। করোনায় অন্যদের সেবা দিতে গিয়ে বহু স্বেচ্ছাসেবকও আক্রান্ত হয়েছে। তবুও সবাই নির্ভয়ে কাজ করছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম আরও বলেন, চীন সমন্বিত উদ্যোগে মোটিভেট করে সংক্রমণের হার কমায়। আমরাও গত বছর শূন্যের কোটায় সংক্রমণের হার নিয়ে এসেছিলাম। ওইসময় সবার মাঝে ভীতি ছিল। সবাই সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এবার মানুষের মাঝে ভয়ভীতি কম দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীন সবাই। তবে আমরা আশাবাদী আবারও শূন্যের কোটায় সংক্রমণের হার নেমে আসবে। সেই পর্যন্ত আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ অব্যাহত থাকবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা লকডাউন কার্যকরে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবীদের কারও বিরুদ্ধে খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন মানবিক কাজে সবাইকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সকলের মনে রাখা উচিত করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। নিয়মিত হাত পরিস্কার রাখুন।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে কক্সবাজারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও করোনা সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর। পাশাপাশি আরও লোকজনকে সচেতন করতে এবং শহরের অলিগলিতে লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণে ১২০ জনের স্বেচ্ছাসেবী দলকে মাঠে নামানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা শহরের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সরকারঘোষিত ১৮ দফা বাস্তবায়নের কাজ চালাচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •