মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভাতিজাদের সাথে মারামারির কিছুক্ষণ পর চাচার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আবু তাহের (৫৫)। (২৪ এপ্রিল) শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর বুকে ব্যথা অনুভব হলে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃতের সন্তানদের দাবি, তাদের বাবাকে কিল-ঘুষি ও লাথিতে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া মাইজপাড়া এলাকার মৃত হাফেজ আবদুল গনির ছেলে আবু তাহেরের নাতি-নাতনিরা বাড়ির গাছ থেকে ঢিল ছুড়ে আম পাড়ছিল। এসময় তাহেরের ছোট ভাই আবু ছিদ্দিকের ছেলে জোনায়েদ ও মোরশেদের সাথে এ বিষয়ে তর্কাতর্কি হয়। এরপর মো. জোবায়েরকে গাছ থেকে আম পাড়ার জন্য তুলে দেয় জোনায়েদ। পরে উত্তেজনার এক পর্যায়ে উভয়েই মারামারিতে লিপ্ত হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে আবু তাহেরের ছেলে এহছান এসে উভয়ের ঝগড়া থামিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর বুকে ব্যথা উঠে তাহের অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনরা তাকে ঘর থেকে কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু তাহেরের মেয়ে শাকিলা সোলতানার দাবি-তার বাবাকে জোনায়েদ ও মোরশেদ বুকে কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারায় নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে তার বাবা মারা যান।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জাহেদ হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আবু তাহের মারা যান। তার মুখে হালকা রক্ত দেখা গেছে।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আম পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি ও কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার প্রায় আধঘন্টা পর তাহের বুকে ব্যথা অনুভব করে। পরে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •