বিদেশ ডেস্ক : অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না, তবে সতর্ক থাকুন, কোনওরকম সমস্যার সম্মুখীন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বার্তা দিলেন ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠী। দেশে করোনা সুনামি নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্কের পরিবেশের মাঝে  ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যে বার্তা দিয়েছেন নারায়াণা হেলথ-র চেয়ারম্যান দেবী শেঠী। তিনি ছাড়াও যে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন মেদান্তার চেয়ারম্যান চিকিৎসক নরেশ ত্রেহান ও দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া।

দেশের বিদগ্ধ এই চিকিৎসক দেবী শেঠী যেখানে বলেন, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ শতাংশের বেশি হলে চিন্তার কিছু নেই। তবে অল্প শারীরিক কসরতের পর তা কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে কাশি, হাঁচি, বদহজম, বমি ও শরীরে অত্যধিক ব্যথার মতো কোনও উপসর্গ থাকলে তৎক্ষণাৎ করোনা পরীক্ষা করিয়ে নিন। অনেক ক্ষেত্রেই কোভিড আক্রান্ত হলেও কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে হোম আইসোলেশনে থেকে ঘণ্টা ছয়েক অন্তর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপুন।

এদিকে, চিকিৎসক নরেশ ত্রেহান বলেন, বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি যেরকম তাতে যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা, অক্সিজেন বা রেডমিসিভের দেওয়া একান্ত প্রয়োজন, তারা যাতে সঠিক চিকিৎসা পান, সেটা নিশ্চিত করাটা খুব প্রয়োজন। কোনওভাবেই অক্সিজেন বা ওষুধ অপচয় করার জায়গায় আমরা নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, বেশিরভাগ কোভিড আক্রান্তই আইসোলেশনে থেকে সেরে ওঠেন। ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অনেক বিষয় খতিয়ে দেখে তারপরই সিদ্ধান্ত নেন তারা।

কার্যত একইরকম মত পোষণ করেন দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেন, অক্সিজেন বা রেডমিসিভের ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই কিন্তু ৮৫ শতাংশ করোনা রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। ৫-৭ দিনের প্রচণ্ড জ্বর, গায়ে ব্যথা, শুকনো গলার মতো সমস্যা ভোগায় তাদের। কিন্তু ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যাটা সেখানে মোটেই আটকে থাকে না। সেটা অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

দেশের তিন শীর্ষ চিকিৎসকই দেশবাসীর কাছে আর্জি জানান, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্ক থাকা, আর প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজনীয়।
– এবিপি আনন্দ

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •