সিবিএন ডেস্ক:
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের প্রধান লক্ষ্য ছিলো বর্তমান সরকার পতনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো মামুনুলের।

বিশেষত জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিলো তার।
হেফাজতের তাণ্ডবের পর সবচেয়ে সমালোচিত মামুনুলকে গ্রেফতারের পর সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আর এতেই একে একে বেরিয়ে আসছে সরকারবিরোধী নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের পতনের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখেছিলেন মামুনুল হক। এজন্য তিনি হেফাজত নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতেন। তার মতে, অন্য নেতাদের দিয়ে এই বিপ্লব সম্ভব নয়, তাই তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলনের নামে সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

মামুনুল মনে করতেন, বর্তমান সরকারের পতন হলে, কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে হেফাজতের সমর্থন লাগবে। আর এই সরকার পতনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হেফাজতে ইসলামের মধ্যে অন্যতম উগ্রপন্থি নেতা মামুনুল হক। তিনি যেকোনো মূল্যে এই সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন। এই কারণে আন্দোলনের নামে যেকোনো কর্মসূচিতে সহিংসতার উস্কানি দিতেন তিনি।

সবশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল হেফাজতে ইসলামের। এ হীন উদ্দেশ্যে কওমি মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের উস্কানি দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছিলো।

মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ বলেন, রিমান্ডে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। হেফাজতের নেতাকর্মীদের সহিংসতায় সরাসরি উস্কানি দিতেন তিনি।

গত রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে সাত দিনের রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা ২৩টি মামলার তদন্ত ভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২৩টি মামলার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ২টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫টি, কিশোরগঞ্জে ২টি, চট্টগ্রামে ২টি ও মুন্সিগঞ্জে ২টি। হত্যা, বিস্ফোরক, নাশকতাসহ নানা অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডির প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে নারায়ণগঞ্জে তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মামুনুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামুনুল অন্য একটি মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। সেটি শেষ হলে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে সিআইডি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •