সিবিএন ডেস্ক:
সমঝোতার কৌশল পরিহার করে হেফাজতে ইসলামকে শক্তভাবে দমনের দাবি উঠেছে ১৪ দলের আলোচনা সভায়। একইসঙ্গে বিএনপি-জামায়াতকে দমনের দাবিও তোলা হয়। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় ১৪ দলের নেতারা এ দাবি তোলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, হেফাজত ইস্যুতে সরকার সঠিক পথে সঠিকভাবেই এগোচ্ছে। এ বিষয়টি তিনি ১৪ দলের সকলকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, নীতির প্রশ্নে শক্তভাবে দাঁড়ালে ২০১৩ সালের ৫ মে তাণ্ডবের পরই হেফাজত প্রশ্নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা যদি নীতির প্রশ্নে শক্তভাবে দাঁড়াই, যদি আমরা শক্ত থাকি তাহলে কোনও অশুভ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের যে নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছিল, তখন থেকেই আমাদের এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীর তাণ্ডবের ঘটনায় আমির আমির বাবুনগরী দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে তোফায়েল আহমেদ উল্লেখ করেন।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, রাষ্ট্র এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা অদৃশ্য কোনও শত্রু নয়। তারা দৃশ্যমান সংগঠন হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ইসলাম এবং বিএনপি।

বিএনপি-জামাত-হেফাজত একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে ইনু বলেন, জঙ্গি, হেফাজত, জামাত-বিএনপিকে পক্ষে রাখার কৌশলটা ভ্রান্ত কৌশল। এই কৌশল পরিত্যাগ করতে হবে। বিএনপির সঙ্গে হেফাজত-জামায়াত, জঙ্গিদের আলাদা করার কৌশল আমাদের পরিহার করতে হবে। বিএনপিকে জামায়াত এবং হেফাজতের থেকে আলাদা করার প্রয়োজন মনে করি না। দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষে লাভ নেই। সাপ ছোবল মারবেই। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা এবং মুজিবনগর সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে চার মুল নীতির ওপরে শক্ত ভাবে দাঁড়াতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একটু সাম্প্রদায়িকতা, একটু ধর্ম, একটু খাতির করা এরকম নীতির দিকে যাওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে ইনু বলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বাংলাদেশের কোনও মসজিদ রাজনৈতিক মিটিং মিছিলের কেন্দ্রস্থল হবে না। সরকারকে বলবো এ ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিবেন। সকল মাদ্রাসাকে নজরদারিতে আনতে হবে। পাঠ্যপুস্তক রিভিউ করে সাম্প্রদায়িকতার যত ছাপ রয়েছে তা দূর করতে হবে। এই ধাক্কাতে ওদের দমন করতে হবে। ধ্বংস করতে হবে।

তিনি বলেন, হেফাজত বিএনপি জামাতের সঙ্গে সমঝোতার কোনও সুযোগ নেই। সমঝোতার কৌশল পরিহার করে তাদের ধ্বংস এবং দমন করার নীতি অবলম্বন করতে হবে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, হেফাজতের ওপর ভর করে বিএনপির ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে হেফাজতের এক পক্ষ সরকারের পক্ষে আরেক পক্ষ বিপক্ষে তাহলে তা সরকারের জন্য মারাত্মক ভুল হবে। এক পক্ষকে বাদ দিয়ে অন্য পক্ষের সাথে আপোষ করলে তারা কি সরকারের পক্ষে থাকবে সেই গ্যারান্টি দিতে পারবেন?

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মৌলবাদী চেতনায় বিশ্বাসী হেফাজতে ইসলাম এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কখনও গ্রহণ করেনি। তারা জাতির পিতাকে স্বীকার করেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি যুদ্ধের মধ্যে রয়েছেন। এ যুদ্ধ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার যুদ্ধ। যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, ধর্মের নামে ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যা করেছিল, সেই শক্তি আজকেও বিভিন্ন নতুন নামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পাঁয়তারা করছে। অবশ্য সরকার এটা কঠিনভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এজন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

হেফাজতকে দমনে ১৪ দলের নেতাদের দাবি প্রসঙ্গে জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, আমাদের ১৪ দলের নেতারা অনেক কথা বলেছেন। আমাদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত সহজ কিন্তু সরকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে তা সরকারের ব্যাপার। আমি মনে করি সরকার সঠিক প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে।

মুজিবনগর সরকার প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, অনেকেই বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে অনেকের অবদান ছিল, সহযোগিতা ছিল, এদেশের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল, তাদের বক্তব্য সব ঠিক কিন্তু এই অবদান, সহযোগিতা কার নেতৃত্বে, কার আহবানে হয়েছিল তারা সেই সত্যকে গোপন করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার এই অপপ্রয়াস কখনও সফল হবে না।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে সিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •