অনলাইন ডেস্ক: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে চলছে সরকারি বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলাকালে ১৮ এপ্রিল চিকিৎসক-পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনীকে হেনস্থার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেন (বিএমএ)।

হেনস্থার ঘটনায় দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতংকগ্রস্থ ও হতাশ হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করলে এবং রাস্তায় ক্রমাগত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হয়রানি ও নাজেহাল চলতে থাকলে নানাধরনের মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে তারা কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের বৃহৎ সংগঠন বিএমএ।

বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর সই করা প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, চলমান লকডাউনে করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে যাতায়াতকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা হয়রানি ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এধরনের ঘটনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতংকগ্রস্থ ও হতাশ হয়ে পড়ছেন।

প্রতিবাদ লিপিতে আরও বলা হয়, রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইদা শওকত জেনীর গাড়ি আটকিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়ার নামে একজন নারী চিকিৎসককে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে তার খবর ও আংশিক ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিজ গাড়িতে কর্মরত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগানো এবং নিজের নামাঙ্কিত চিকিৎসক গাউন পরিহিত অবস্থায় নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে আক্রমণাত্মকভাবে জেরা করে উত্যক্ত ও হেনস্থা করার খবর দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

এতে বলা হয়, ক্রমাগত এ ধরনের ঘটনা সংগঠিত হওয়ার কারণে বিষয়টি অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে অবহিত করার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করলে এবং রাস্তায় ক্রমাগত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হয়রানি ও নাজেহাল করতে থাকলে নানা ধরনের মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। যার প্রভাব বর্তমান নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পড়তে বাধ্য।

প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, সচিবালয় কিংবা পুলিশ কিংবা সাংবাদিক লেখা স্টিকারযুক্ত কোনো গাড়ি কোথাও আটকানো হয়েছে বা থামানো হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত নজির নাই। অধিকন্তু বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ চিকিৎসকই প্রাইভেট প্রাকটিসের সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন না। ফলে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ডও নেই।

ভবিষ্যতে এধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএমএ। পাশাপাশি রোববারের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, সরকারি বিধিনিষেধ চলার পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে চলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আইডি কার্ড প্রদর্শন ও মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ দিন ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের চেকে পড়েন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনী। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা রকম আলোচনা ও সমালোচনা।

-সারাবাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •