অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি, মুখে নেই মাস্ক

বলরাম দাশ অনুপম:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপি চলছে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন। আজ সেই লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন। শহরের প্রধান সড়কে এই লকডাউন টিলেঢালা ভাবে চললেও অলিগলিতে যেন লকডাউন ভাঙ্গার হিড়িক পড়েছে।

শহরের প্রায় সব অলিগলিতে সকাল থেকে রাত অবধি দেখা যাচ্ছে ভিড় আর আড্ডাবাজি। প্রায় এলাকায় খোলা রয়েছে সকল ধরণের দোকানপাট। এদের অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি আবার বেশির ভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। সর্বাত্মক লকডাউনে সরকারের দেয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে কারণে-অকারণে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন।

তবে যখনই ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা পুলিশের উপস্থিতিতে দেখতে পাই তখনই সড়ক ফাঁকা করে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় এসব মানুষ। অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশকে নানা অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়ক, গোলদিঘীর পাড়, বাহারছড়া, বড় বাজার, হাসপাতাল সড়ক, টেকপাড়া, কালুর দোকান, রুমালিয়ারছড়া, তারাবনিয়ার ছড়া, ঘোনারপাড়া, বৈদ্যঘোনাসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে। শহরের প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক (টমটম), ব্যাটারি চালিত রিক্সা, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন চলছে নিয়মিত ভাবেই। তবে যাত্রীবাহি কোন গণপরিবণ চলছে না।

এদিকে দুপুর গড়ালেই অলি-গলিগুলো হয়ে উঠছে ভরা হাটবাজার। শুধু মানুষ আর মানুষ। সোমবার দুপুরে আড্ডারত অবস্থায় গোলদিঘীর পাড় চত্ত্বরে কথা হয়
কয়েকজন যুবকের সাথে। তারা এই প্রতিবেদককে জানান, সারাদিন বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না বলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ক্ষণিকের জন্য বাইরে বের হয়েছেন। এখন কলেজও বন্ধ, পড়াশোনার চাপ নেই। সন্ধ্যা পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে ঘুরবেন। ইফতারের আগে বাসায় ফিরবেন। এসময় অনেককে দেখা গেছে মুখে মাস্ক ছাড়া।

মাস্ক না পড়ার বিষয়ে অনেকে জানান, মাস্ক পরে কি হবে। করোনা হওয়ার থাকলে এমনেই হবে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে ও অলি-গলিতে মানুষের জটলা সম্পর্কে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুনীর উল গীয়াস জানান, যতক্ষণ পুলিশের উপস্থিতি থাকে ততক্ষণ মানুষ সচেতন থাকে, ঘুরাফেরা করে না। পুলিশ চলে যাওয়ার পর ঠিক আগের অবস্থায় চলে যায়। যদি মানুষ নিজেরা সচেতন
না হয় তাহলে কারো পক্ষে তাদের শতভাগ সচেতন করে তোলা সম্ভব নয়। তবুও যাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সবসময় মাইকিংসহ টহল দিচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •