বিশেষ প্রতিবেদকঃ
শহরের আলিরজাহাল এলাকায় স্বাদ ও মিষ্টিবন নামে দু’টি বেকারির কারখানার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এই দুই কারখানার বর্জ্য নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছে স্থানীয়রা। গত এক বছর ধরে বেকারির ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে বসবাস করা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার অনেক ভাড়াটিয়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। কারখানার আশপাশের বিরাট জায়গাজুড়ে তাদের দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনায় কেউ বসবাসও করতে পারছে না। স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবগত করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের আলিরজাহানস্থ হাজী ছিদ্দিক আহমদ গলির পাশে স্বাদ ও মিষ্টিবন নামে দুইটি বেকারির বিশাল কারখানা রয়েছে। কক্সবাজারের যেসব স্বাদ ও মিষ্টিবন বেকারি রয়েছে তাদের সব জিনিসপত্র ওই কারখানায় তৈরি হয়। ওখান থেকে তাদের প্রতিটি বেকারিতে পৌঁছানো হয়। কিন্তু এই দুই কারখানার বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে কারখানার আশপাশের এলাকায়। কারখানার চারপাশে নোংরা আবর্জনায় ভরে গেছে। মাসের পর মাস আবর্জনা গুলো সরানোর কোনো উদ্দ্যোগ নেই। বরং দিন রাত সমানতালে কারখানার নোংরা পানি ও ময়লা-আবর্জনা গুলো ফেলা হচ্ছে সমতল জায়গায়। যার কারণে আবর্জনা গুলো একজায়গায় জমা হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল্লাহ কায়সার বলেন, স্বাদ ও মিষ্টিবন কারখানার ময়লার জন্য এখানে কেউ সঠিকমতো বসবাস করতে পারছে না। বিশাল দুটি কারখানার প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এলাকার মাঝখানে। কারখানা দু’টির চারপাশে বিশাল জায়গা জুড়ে দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বর্জ্য গুলো নির্দিষ্ট কোথাও ফেলছেও না আবার সঠিক মতো নালায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থাও করছে না। যার কারণে পুরো এলাকার মাঝখানে নোংরা বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধে চলাচলও করা যাচ্ছে না। কারখানার এমন কর্মকান্ডের জন্য এলাকাবাসীরা স্থানীয় কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদারকেও অবগত করেছিল বহুবার। কাউন্সিলর বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কাউন্সিলর উল্টো তাদের পক্ষ নিয়ে বলে এই এলাকায় আমার ভোট নেই, তাই এলাকাটি এভাবে পড়ে আছে। যেখানে আমার ভোট আছে, সেখানে আয়নার মতো পরিস্কার করে দিয়েছি। স্থানীয় সমাজ নেতা আমিন ছিদ্দিক বলেন, পুরো এলাকায় বসবাস করা যাচ্ছে না দুর্গন্ধের কারণে। তাদের দুর্গন্ধ আবর্জনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সময় মানুষের বসতবাড়িতেও ঢুকতে পড়ছে তাদের বর্জ্য গুলো। শত প্রতিবাদ করেও এলাকাবাসীরা তাদের কাছে অসহায়। একটু বৃষ্টি হলে কথাই নেই। বৃষ্টির সাথে দুর্গন্ধ বর্জ্য গুলো রাস্তায় ও নিচু এলাকার বাড়িতেও ঢুকে পড়ে। কারখানার আবর্জনার গুলো হাজী ছিদ্দিক আহমদের পুরো গলিতে ভরপুর থাকে সবসময়। যার কারণে এলাকাবাসীর উদ্দ্যোগে রাস্তায় হাঁটার জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মাটির কাজ চললেও রেহায় পাচ্ছে এসব আবর্জনা থেকে। দুর্গন্ধের কথা স্বীকার করে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহাব উদ্দিন সিকদার বলেন, স্বাদ ও মিষ্টিবনের মালিককে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে তাদের কারখানার বর্জ্য গুলো নির্দিষ্ট কোথাও ফেলতে। কিন্তু তারা কথা না শুনে এলাকার মাঝখানে ময়লা আবর্জনা গুলো নিয়মিত ফেলেই যাচ্ছে। আবর্জনা গুলো নালা কিংবা নদীতে পতিত হওয়ার জন্য সেই ব্যবস্থাও করেনি কারখানার মালিক। যার কারণে আবর্জনা গুলো জমাট বেঁধে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। পৌরসভার নির্দিষ্ট ষ্টেশনে ময়লাগুলো ফেলতেও বলা হয়েছিল কিন্তু তাও করেনি তারা। এবিষয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •