এম.এ আজিজ রাসেল :
গত ১৬ এপ্রিল রাত ১২ টায় ১৩৮৩ রাখাইন অব্দ শেষ হয়েছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ১৩৮৪ নতুন অব্দ শুরু হয়েছে। বর্ষবরণ ও পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন প্রতি বছর মহাসমারোহে সাংগ্রাই বা জলকেলি উৎসবে ওঠেন। গতবছর করোনার জন্য এই উৎসব হয়নি। এবার একেবারে পারিবারিকভাবে এই উৎসব শুরু হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) ছিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন। শহরে রাখাইন পল্লীতে রঙহীনভাবে চলছে ‘জলকেলি’ উৎসব। উৎসাহ থাকলেও নেই উচ্ছ্বাস। লকডাউনে কমেছে প্যান্ডেলের সংখ্যা। আগে শহরে ২০—২৫টি জলকেলির প্যান্ডেল হতো। বর্তমানে করোনা মহামারীতে তা কমে নেমে এসেছে ৬—৭টিতে। তাও প্যান্ডেলগুলো ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি করা।
রবিবার দুপুরে টেকপাড়া, হাঙর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, পূর্ব—পশ্চিম মাছ বাজার, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, আনন্দ উচ্ছাসের মাত্রা কমলেও প্যান্ডেলগুলোতে ছিল উৎসাহ—উদ্দীপনা। সবার মুখে মুখে ছিল মাস্ক। তবে প্যান্ডেলে ছোট ছোট শিশুরাই ছিল বেশি। খানিক পর পর রাখাইন তরুণ—তরুণীরা একে অপরের গায়ে জল ছিটিয়ে পুরোনো বছরের হতাশা দূর করে নতুন বর্ষে নব আলোকে পথ চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় সবার মাঝে শুধু একটি প্রার্থনা করোনা মুক্ত হোক পৃথিবী। আবারও সবার মুখে ফুটে উঠুক অনাবিল আনন্দের হাসি। যে হাসি ভুলে দেবে করোনার ঘোর অন্ধকার। সোমবার (১৯ এপ্রিল) পর্দা নামবে করোনাকালীন এই উৎসবের।
রাখাইন তরুণ—তরুণীরা জানান, আধিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছি। তবে এবার করোনার কারণে উৎসব হচ্ছে সীমিত পরিসরে। নববর্ষ উপলক্ষে আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। গত ১৪ এপ্রিল চন্দন জলে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় করোনা মহামারী থেকে মুক্তিলাভে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এরপর ১৫ ও ১৬ এপ্রিল পাড়া—মহল্লায় চলে শিশুদের জলকেলি। শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবদি সীমিত আয়োজনে মৈত্রিময় জলকেলিতে মেতে উঠে রাখাইন তরুণ—তরুণীরা। এবার সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন চলমান থাকায় উৎসবে আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই। সোমবার উৎসবের সমাপনী দিন।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং জানান, এটি রাখাইন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির অংশ। করোনা মহামারীর কারণে এবার সীমিত আকারে জলকেলিতে মজেছে শিশু—কিশোর ও তরুণ—তরুণীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •