অনলাইন ডেস্ক: ‘আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি তাই ডাক্তার, কিন্তু তুই পাসনি নাই তাই পুলিশ’- কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে চেকপোস্টে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হলে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে এভাবেই চিৎকার করেছেন একজন চিকিৎসক। চেকপোস্টে তিনি পুলিশকে তার আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি। তাই তাকে আটকানো হলে ‘হারামির বাচ্চা’ বলেও মোবাইল কোর্টে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সম্বোধন করতে দেখা যায় ওই চিকিৎসককে। রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর নিউ এ্যালিফেন্ট রোডের একটি চেকপোস্টে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ফেসবুকে ইতোমধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, চেকপোস্টে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হলে চিকিৎসক আইডি প্রদর্শন করতে পারেন নি। তখন বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন তিনি। নিজেকে বীর বিক্রমের কন্যাও দাবি করেন। তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকদের কাছে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ও ম্যাজিস্ট্রেট তখন বলেন, ‘আপনাকে হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনাকে তো খারপ কিছু বলা হয়নি। আইডি কার্ড চাওয়া হয়েছে। আপনি এ রকম ব্যবহার করছেন কেন। আমরা তো আইনের কাজই করছি।’

এ পর্যায়ে গাড়িতে উঠে পরেন তিনি। তখন আবারও উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়ান ওই চিকিৎসক। এসময় তিনি আন্দোলনের ভয় দেখান পুলিশ সদস্যদের। সাংবাদিকদের কাছে নালিশ করেন ওই চিকিৎসক। মোবাইল ফোনে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কথা বলার জন্য ফোনটি ধরিয়ে দেন পুলিশ সদস্যসের হাতে।

এসময় উপস্থিত একজন সাংবাদিককে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘সাংবাদিক ভাই শুনেন, দেখেন ডাক্তারদের সাথে কি করতেসে এই হারামজাদা পুলিশ।’ এসময় ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে বলেও কয়েকবার চিৎকার করেন ওই চিকিৎসক।

এসময় পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘আপনি আমাদের তুই তুকারি করতে পারেন না।’

এসময় ওই মহিলা চিকিৎসক চিৎকার করে বলেন, ‘এই শোন আমি মেডিকেলে চান্স পাইছি বলেই আমি ডাক্তার, তুই চান্স পাসনাই বলেই তু্ই পুলিশ। ডাক্তার, ডাক্তার, ডাক্তার।’ আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)সহযোগী অধ্যাপক, যুগ্মসচিব লেভেলের ডাক্তার।

এসময় পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের লোক। আমাদের আইডি কার্ডও সাথে আছে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বহুবছর ধরে কোচিং সেন্টারের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস ও তদবির এবং ঘুষ দিয়ে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলে চান্স পাওয়ার অভিযোগ আছে। একইভাবে ঘুষ দিয়ে ও তদবির করে পুলিশসহ অধিকাংশ ক্যাডার ও ননক্যাডারের চাকরি পাওয়ারও অভিযোগ আছে। এছাড়া নিম্ন মেধা হলেও অনেকেই কোটায় ক্যাডার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •