সিবিএন ডেস্ক:
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন চলছে দেশে। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। কিন্তু প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে চালু করা হয় বিশেষ ফ্লাইট। তবে বিশেষ ফ্লাইটের প্রথম দিনে অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বাংলাদেশ ছাড়তে পারেনি। ফলে প্রবাসীদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

এদিকে একাধিক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মনে সংশয় ঢুকে গেছে। আসলে তারা যেতে পারবেন কি না? তাই তারা বিমানে না উঠা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছেন না। কেউ কেউ এটাও বলছেন, তাদের কষ্ট না দিয়ে সরকার চাইলে আমাদের আরও দ্রুতই পাঠাতে পারে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন সূ্ত্রে জানা যায়, শনিবার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ছিলো ৫টি। এর মধ্যে ৪টি বাতিল হয়েছে। যার মধ্যে দাম্মামে ১টি, বিয়াদের ১টি আর দুবাইতে দুটি। তবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট জেদ্দায় গিয়েছে ২৬৫ জন যাত্রী নিয়ে। এ ছাড়া আজ ১২টি বিশেষ ফ্লাইট ছিল। এর মধ্যে ৭টি বাতিল হয়েছে। যাত্রী সংকট তথা যাত্রী না পাওয়া আবার যে সব দেশে ফ্লাইট যাবে সে সব দেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে। যেমন আজ সৌদি আরবের কোনো অনুমতি না পাওয়ায় অন্য কোনো ফ্লাইট যাত্রী বহন করেনি। এমনকি সৌদি এয়ারলাইন্সও তাদের ফ্লাইট বাতিল করে।

শনিবার দুবাই থেকে ফ্লাই দুবাই এবং বিমান বাংলাদেশের রিয়াদের ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে। ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটটিতে ফেরার পথে ১০জন যাত্রী টিকিট কাটেন। আর বিমানে ওঠেন মাত্র দুজন যাত্রী।

এ ছাড়া সকালে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইট মাসকাট থেকে ৪০ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশে আসে। ইতিহাদের একটি ফ্লাইট ১৪৫ যাত্রী নিয়ে রাত ৭টার ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশে অবতরণ করেছে।

অপরদিকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করে প্রবাসীরা। আবার দুপুরে টিকিট সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের মতিঝিল অফিসের সামনেও বিক্ষোভ করে প্রবাসীরা।

সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করা এক প্রবাসী নাম প্রকাশ শর্তে বলেন, আমরা দ্বিগুণ টাকা পয়সা খরচ করে বিদেশ যাচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কুমিল্লা থেকে আসছি। আমার কাছে এক টাকাও আর নেই। পথে মধ্যে অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি। সারাদিন আর রাতেও কিছু খায়নি। আমরা কি মানুষ না?

অন্য একজন যাত্রী ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি ব্রাহ্মবাড়িয়া থেকে আসছি। বউয়ের সোনা বিক্রি করে আসছি। রাত ১টায় আসছি বিমানবন্দরে। সকালে বলে ফ্লাইট বাতিল। কই যাবো আমরা। করোনা পরীক্ষা, রাস্তায় গাড়ি ভাড়া করে আসা। বিমানবন্দরে না খেয়ে থাকা। আর কত কষ্ট করব। দেশেই যখন আমাদের কেউ দেখে না। বিদেশে আমাদে কে দেখবে বলেন? আমরা আসলে মানুষ না।’

প্রবাসীদের ৫টি দেশে ফেরত পাঠাতে তথা তাদের কর্মস্থলে ফেরাতে ১০০ এর অধিক ফ্লাইটের অনুমোদন দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচক। আর ৫টি দেশ হচ্ছে, সৌদি আরব,সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর। অপরদিকে ১২টি এয়ারলাইন্স যাত্রী বহনের অনুমতি পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, ইতিহাদ, এয়ার অ্যারবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ফ্লাই দুবাই এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স।

বাংলাদেশ বিমানের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সৌদি আরবের অনুমতি না পাওয়ায় আমাদের কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রাতে আমাদের বিমানের স্লট ছিলো। কিন্তু সকালে আমরা যাওয়ার অনুমতি পায়নি। অন্যদিকে আমাদের যাত্রীর সংকটও ছিলো। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আমাদের ফ্লাইট আছে সেগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান প্রবাসীদের কষ্ট দিতে চাই না। আমরা প্রবাসীদের নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে কাজ করছি। সন্ধ্যায় সৌদি সরকারের অনুমতিতে আমাদের একটি ফ্লাইট গিয়েছে। আগামীকাল থেকে আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনরুছ সালেহীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের কথা ভাবছেন। তিনি চান প্রবাসীদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। প্রবাসীরা যেন সুন্দরভাবে যেতে পারে আমাদের সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ জন্য প্রবাসীদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা সকল প্রবাসীদের বিদেশে পাঠাব। যাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে তাদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেসব দেশে যোগাযোগ করছি। প্রবাসীদের আমরা পাঠাব। সে জন্য আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সৌদি সরকার এরইমধ্যে অনুমতি দিয়েছে। আশা করি আগামীকাল থেকে কোনো সমস্যা হবে না।’

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘আজ সৌদি আরব কয়েকটি ফ্লাইটের অনুমোদন দেয়নি। যার কারণে কিছু ফ্লাইট যেতে পারেনি। আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। সৌদি এয়ারলাইন্সে যারা ছিলো তারা কিন্তু যেতে পারেনি। সবশেষ সন্ধ্যায় একটি ফ্লাইট গিয়েছে। আগামীকাল থেকে আরও অনেক ফ্লাইট যাবে। আমরা সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •