বার্তা পরিবেশক
পর্যটন নগরী কক্সবাজার কলাতলী সৈকত পাড়ায় অবস্থিত মেঘলা রিসোর্ট দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে এক ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। এ বিষয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২১ ইংরেজি তারিখে মেঘলা রিসোর্টের প্রকৃত মালিক মো. নাছির উদ্দীন ও মো: মরজুর অালম বাদী হয়ে ওবায়দুল্লাহ (৪০) কে প্রধান অাসামী করে ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. নাছির উদ্দীন ও মো: মরজুর অালম দুইজনেই পরস্পর মামা-ভাগিনা হয়। তারা দু’জনের বিগত ১৫ বছর পূর্বে থেকেই সুনামের সাথে হোটেল ব্যবসা করে অাসছে। উক্ত বাদীদ্বয় ২০০১ ইং সালে খরিদ পূর্বক তথায় হোটেল নির্মাণ ও বাসা করে সেখানে ব্যবসা ও বসবাস করছে।
অভিযোগে উল্লেখিত অাসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বাদীর মালিকানাধীণ মেঘলা রিসোর্ট ইয়াবা রেখে বাদি নাছির উদ্দীনকে ষড়যন্ত্র করে র্যাবের হাতে ধরিয়ে দেয়। অথচ উপরোক্ত ইয়াবার ব্যাপারে কিছুই জানেনা তিনি। পরবর্তীতে অাসামীরা তাদের মালিকানাধীন হোটেলটি অবৈধভাবে দখলের পায়তারা করে। বাদি নাছির উদ্দীন মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে যাওয়ার সাথে সাথেই তার পিতা হোটেল চালনোর জন্য গেলেই বিবাদীরা তাকে ভয়ভীতি হুমকি-ধমকি দিয়ে হোটেল থেকে বের করে দেয়।
এরপর ১নং বাদী তার মামা মনজুর অালম উক্ত হোটেল পরিচালনা করার জন্য গেলে তাকেও মারধর করে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা। বিবাদীরা তার পিতা ও তার মামা মরজুর অালমকে বাহির করে হোটেল দখলের পায়তারা করে। পরবর্তীতে নাছির উদ্দীন জেল হাজত থেকে জামিনে বের হয়ে অাসার পর বিবাদীরা পুনরায় তার সাথে ঝামেলা জড়ানোর চেষ্টা করে। এমনকি তিনি ও তার পরিবার সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি প্রধান করে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল ২০২১ সালে দুপুর অানুমানিক ২ টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড পেশকার পাড়ার মৃতু ইউসুফ অালীর ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৪০), উখিয়ার থানা বালুখালী এলাকা মো. রিদুয়ান (৩০), একই এলাকার শাহ কামাল চৌধুরীর ছেলে মো. জামি চৌধুরী (২০), পৌরসভার পেশকার পাড়ার মোনাফ (৩৫), পৌরসভার ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার মো. অাফসান (২৮) ও পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড কলাতলীর মো. মাওন (২৭)-সহ অাজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা হোটেলে গিয়ে অবৈধ দখলের চেষ্টা করে। এমনকি উক্ত অাসামীরা বাদীকে মারধর করার জন্য উদ্ব্যত হয় এবং খুন করবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে উক্ত অাসামীরা বাদী মনজুর ও নাছির উদ্দীনের কাছ থেকে ২০ লাখ চাঁদা দাবি করে। উক্ত অাসামীদের দাবিকৃত টাকা দিলে নাকি তারা হোটেল ব্যবসা করতে পারবে। অন্যথায় ওই স্থানে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না হুমকি দেয়। উপরোক্ত অাসামীরা যেকোন মুহুর্তে উক্ত হোটেল দখল বিষয় নিয়ে তাদের উপর খুন করতে পারে এমন অাশংকা প্রকাশ করছে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদীরা উচ্চ মহলের প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে বাদিকে ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি প্রদান করে। অভিযুক্ত অাসামীদের উপরোক্ত কর্মকান্ডের ফলে জাল মালের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই বিষয়ে বাদিরা প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে রিসোর্টের মালিক মো. মনজুর অালম বলেন, ওই মেঘলা রিসোর্টের মালিক অামরা মামা- ভাগিনা। ওই রিসোর্ট দখল করার জন্য উক্ত দখলবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নানা পায়তারা শুরু করছে। ইতিপূর্বেই ওই মেঘলা রিসোর্ট দখলে নেয়ার জন্য উপরোক্ত ভূমিদস্যুরা অামার ভাগিনা নাছির উদ্দীনকে কৌশলে রিসোর্টে ইয়াবা দিয়ে তাকে পাষানো হয়েছিল। যখন অামার ভাগিনা জেল হাজতে ছিল তখন ওই রিসোর্টে তার বাবা গেলে তাকে তাড়িয়ে দেন ওই সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে অামি মালিক হিসেবে নিজে গেলেও অামার থেকে প্রথমে ৭ লাখ চাঁদা দাবি করে ওই টাকা না দিলে অামাকে বেদড়ক মারধর করে তাড়িয়ে দেন এবং উল্টা অামার বিরুদ্ধে মামলা দেন ওই সন্ত্রাসীরা। এরা চিহ্নিত উখিয়ার ভাড়াটিয়া জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী। পরে উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অামি বাদি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয়, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবর অাবেদন দায়ের করি। ওই সন্ত্রাসীদের এতো খুঁটির জোর কোথায়? এই বিষয়ে অামরা প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে ওই মেঘলা রিসোর্টের মালিক মো. নাছির উদ্দীন বলেন, উপরোক্ত অাসামীরা ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী টাইপের লোক। তারা প্রতিনিয়তেই দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত থাকে। অামাদের হোটেলটি দখলে নেয়ার জন্য তারা অামার সাথে নানা প্রতারণা করছে। এমনকি অামার হোটেলে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে অামাকে ফাঁসানোও হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল উক্ত সন্ত্রাসী হোটেলটি দখলে নেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াসহ ৪০/৫০ সন্ত্রাসীরা হোটেলে এসে হামলা চালায়। এসময় ওই সন্তাসীরা ৮ টি টেলিভিশন, ৪টি ডেজিন টেবিল, ৪টি খাট, সুপা সেটসহ বিভিন্ন অাসবাবপত্র লোট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি নিচে ভাড়াটিয়া দুইটি বিকাশ দোকানের মালিককে জিম্মি করে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। হামলা চলানোর পরে ওই সন্ত্রাসী উল্টো অামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ ছাপিয়েছে। উক্ত সন্ত্রাসীরা একাধিক মামলার অাসামী। প্রতিনিয়তেই ওই সন্ত্রাসীরা অামাদের হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এই বিষয়ে অামরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •