সিবিএন ডেস্ক:
করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান সম্পন্ন করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে হাসপাতালে উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। সিটি স্ক্যান সম্পন্ন শেষে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাসায় ফিরে আসেন। তখন খালেদা জিয়া বাসা থেকেই চিকিৎসা নেবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে করোনার সংক্রমণ খুবই সামান্য। যে কারণে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা।

হাসপাতালে বেগম জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা।

কারাবন্দিদশা থেকে মুক্তির পর গত বছরের ২৫ মার্চ ‘ফিরোজা’য় উঠেছিলেন বিএনপি প্রধান। তারপর আর বাসা থেকে বের হওয়া হয়নি তার। সে হিসাবে এক বছরেরও বেশি সময় অর্থাৎ ৩৮৬ দিনের মাথায় ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন খালেদা জিয়া।

এর আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সব পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু সিটি স্ক্যানটা করানো হচ্ছিল না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিটি স্ক্যানটা করিয়ে ফেলব। এছাড়া বাকি সব যেমন- বায়ো কেমিক্যাল প্যারামিটারস, ফিজিক্যাল স্ট্যাটাস, অক্সিজেন স্যাচুরেশন এবং অ্যাপেটাইট, পালস, ব্লাড সার্কুলেশন অন্য সব দিকে তিনি ভালো আছেন।

এফএম সিদ্দিকী আরও বলেন, কোভিডে কখনোই আপনি আগে থেকে বলতে পারবেন না কন্ডিশন কেমন হবে। এটা দ্রুত পরিবর্তনশীল একটা রোগ। তবুও আমরা দ্রুত সিটি স্ক্যান করাবো। আমরা যদি সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে মনে করি যে, বাসায় রেখে চিকিৎসা করাটা তার জন্য ভালো হবে তাহলে বাসায় রাখব। সিটি স্ক্যান দেখে যদি মনে হয় দু-তিনদিন বা কয়েক দিনের জন্য হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখা দরকার-আমরা সেটাও করব। আমাদের ডিসিশনটা নির্ভর করবে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টের ওপর।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘প্রয়োজন হলে দেশের যে কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন বিএনপি প্রধান।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •