কনক বড়ুয়াঃ
অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনগণের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কারিতাস বাংলাদেশ ১২৪টি পরিবারের মাঝে জরুরি অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিগত ২২ মার্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনগণেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অর্থ সহায়তা হিসেবে পরিবার প্রতি এককালীন ২৫ হাজার টাকা (পঁচিশ হাজার টাকা) প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার টাকা জরুরি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক ক্রয় এবং ২০,০০০ টাকা বসতবাড়ি মেরামত ও গৃহস্থলী কাজে ব্যবহারের অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) পালংখালীতে অর্থ সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

এছাড়া অতিথি ছিলেন পালংখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী, ও কারিতাস বাংলাদেশ-এর জরুরি সাড়াদান কর্মসূচীর প্রকল্প পরিচালক মার্সেল রতন গুদা।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংস্পর্শ এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ-এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়। দাতা সংস্থা কারিতাস জার্মানির অনুদানে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয় বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কারিতাসের প্রকল্প পরিচালক মার্সেল রতন গুদা অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্ব হারানো স্থানীয় ১২৬টি পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে দ্রুততার সাথে সার্বিক সহায়তা প্রদান করার জন্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিতাস কর্মকর্তা আবু তাহের, মোঃ সজিব আলী, প্রকল্প সমন্বয়কারী, এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নির্ধারিত সদস্যবৃন্দ।

কারিতাস কর্মকর্তা মোঃ সজিব আলী জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার এ কার্যক্রমটি দাতা সংস্থা কারিতাস জার্মানির অনুদানে সম্পন্ন হয়েছে। সর্বমোট ৩১ লক্ষ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১২৪টি পরিবারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকী ২টি পরিবারের কাছে একই পদ্ধতিতে সমপরিমাণ হারে অর্থ শিগ্রই পৌছে দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, সহায়তা গ্রহণকারীগণ যাতে নগদ এ অর্থ অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যবহার না করে সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও মনিটরিং কাজে নিযুক্ত রয়েছেন কারিতাস কর্মীবৃন্দ যারা স্থানীয় এলাকাতেই বসবাস করেন।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু হতেই বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার সমন্বয়ে কারিতাস কারিতাস বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরে উখিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্যও কারিতাস ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •