অনলাইন ডেস্ক: ঝটিকা সফরে ঢাকা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন জন কেরি। আগামী ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় একটি জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাতেই সশরীরে ঢাকা এসেছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালে জন কেরি ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এসময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ এই সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, জন কেরির সফরটি হবে কয়েক ঘণ্টার। আগামী ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাইমেট ইস্যুতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী পদাধিকার বলে এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় সেই সম্মেলনে তাই প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিতে জন কেরি ঢাকায় আসছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জন কেরি জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের সংকট ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে চায়। এর আগেও আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আমরা একসঙ্গে নিরাপদ বিশ্ব গড়তে চাই।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলে মহাসাগর, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক বিষয়ক ব্যুরোর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার জেমস দিউয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ‘জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় এ বছর আমরা খুব ভালো অগ্রগতি করতে চাই, যা আমাদের জন্য জরুরি। এই ইস্যু নিয়ে রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত জন কেরির একাধিক দেশ ভ্রমণে বের হচ্ছেন। এর কারণ হচ্ছে, আমরা যে অগ্রগতি করতে চাই তা সমন্বয়ের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে, যেন আমরা সবাই মিলে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্যে যেন সবাই মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখে, বিশেষ দূত জন কেরির এই সফর তা নিশ্চিতের চেষ্টা করবেন। এই সফরে জন কেরি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্য আইন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে এই সফরে তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি চলবেন।’

জেমস দিউয়ে বলেন, ‘যেহেতু এটি করোনাকাল, তাই এই সফরে জন কেরি খুবই সতর্ক থাকবেন। এই সফরে যাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে তাদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে।’

জানা গেছে, ৪০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, এর আগে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।-সারাবাংলা

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •