নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় স্বাধীনতাবিরোধী তথা মৌলবাদী চক্রকে এখন থেকে মাঠে নামতে না দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে নতুন করে হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামিয়ে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে আবারো অস্থিতিশীল করার পায়তারা শুরু করায় সেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চকরিয়া ও পেকুয়ার মাটিতে বরদাশত না করারও হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোটর শোভাযাত্রা এবং একাধিক পথসভা করেছেন এমপি জাফর আলম।

এ সময় মোটর শোভাযাত্রার বহরটির সামনে মাইক লাগিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়াবাসী তথা পরিবারের অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান, কোন পরিবারের স্কুল, কলেজ বা মাদরাসায় পড়ুয়া সন্তান যাতে ইসলামের লেবাসধারী বিএনপি-জামায়াত বা হেফাজতসহ মৌলবাদী চক্রের পাঁতা ফাদে পা না দেয়। কোন সন্তান যাতে ইসলাম রক্ষার নামে কোন ধরণের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে সেদিয়ে খেয়াল রাখতে।

এমপি জাফর আলম বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ কর্ণারের’ সামনে থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রওনা দেন চকরিয়ার উত্তর সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন হারবাংয়ে। সেখানে তিনি মাইকে উপরোক্ত ঘোষণা এবং সকল পরিবারের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শমূলক উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে সাধারণ জনতা হাত নেড়ে এমপি জাফর আলমকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এমপির গাড়ির বহরটি চকরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন খুটাখালীতেও প্রচারণা চালায়।

এমপির পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী এই প্রচারণা চালানোর সময় গাড়ির বহরে আওযামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আমিন চৌধুরী জানান, এমপি জাফর আলম মহোদয় করোনা আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তখন দেশের বিভিন্নস্থানে শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ড। সর্বশেষ পরীক্ষায় এমপি মহোদয় করোনামুক্ত হয়েই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছেন। তিনি বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চকরিয়ার হারবাং, বরইতলী, লক্ষ্যারচর, পৌরসভা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী স্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অসংখ্য পথসভা করেন। এই পথসভা ও প্রচারণার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, চকরিয়া ও পেকুয়ার কোন পরিবারের স্কুল, কলেজ বা মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থী যুবকেরা যাতে আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়। তাই ব্যতিক্রমীভাবে এমপি নিজেই এই প্রচারণা শুরু করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির বলেন, ‘চকরিয়ার মাটিতে কোন ধরণের ধ্বংসাত্মক বা আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবেনা। এজন্য আমরা এমপি জাফর আলমের নেতৃত্বে জনগণের সহায়-সম্পদ রক্ষায় সর্বদা মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। যেখানেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অপচেষ্টা করবে সাথে সাথে প্রতিহত করা হবে।’

ব্যতিক্রমী প্রচারণার সময় এমপির সাথে থাকা চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত ব্যাপক আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল। কিন্তু চকরিয়া ও পেকুয়ায় এমপি জাফর আলমের নেতৃত্বে সেই আগুন-সন্ত্রাস কঠোরভাবে প্রতিরোধ করেছেন মাঠে থেকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামিয়ে আবারো দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র যাতে চকরিয়া ও পেকুয়ার রাজপথে নামতে না পারে সেজন্য এমপি জাফর আলমের নেতৃত্বে আমরা আবারো মাঠে নেমেছি।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতচক্রের কোন স্থান নেই। জনগণের জানমাল, সরকারি সম্পদ, মানুষের বাড়িঘরে আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর কোন অপচেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। এর পরও কোন অপশক্তি মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ।’

এমপি জাফর আলম আরো বলেন, ‘আমি করোনাকালীন স্বাস্থবিধি মেনে প্রাথমিকভাবে মোটরশোভাযাত্রা এবং একাধিক পথসভা করে মানুষকে সচেতন করার কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রথমদিন হারবাং থেকে খুটাখালী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৩৯ কিলোমিটারজুড়ে সচেতনতামূলক এই প্রচারণা চালানো হয়েছে। আমি দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছি সেখানেও আমার এই বার্তা পৌঁছে দিতে। এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা এবং সকলে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করা।’

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •