সিবিএন ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অন্য সরকারি সংস্থার মতো কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরিধান করে রাস্তায় বের হওয়া, চেকপোস্ট বসিয়ে ও টহল দিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে পুলিশ। রাজধানীর উত্তর বাড্ডা, রামপুরা ও সবুজবাগ এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে ও টহল টিমের মাধ্যমে ডিএমপির বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র চেক করছেন। অকারণে যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ও মাস্ক পরিধান ছাড়া রাস্তায় যারা বের হয়েছেন তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছেন পুলিশ সদস্যরা।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশায় করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। এ সময় যারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাতায়াত করছেন তাদের এসব পরিবহন থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, কঠোর বিধিনিষেধ অনেক এলাকায় মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুলিশের অবস্থানও ঢিলেঢালা দেখা যায়। এছাড়া এসব এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে আগের মতো দোকানপাটসহ সবকিছু খোলা রয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনের কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিন হওয়াতে তারা নগরবাসীকে নিয়ম মেনে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। এরপরও যদি মানুষ আইন না মেনে চলেন, তাহলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা মাইকিং ও টহল পার্টির মাধ্যমে মানুষকে নিয়ম মেনে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অনেক জায়গায় নিয়ম মানা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনে আমরা শক্ত ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট করবে। ঢাকার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও চেকপোস্ট করা হবে। চেকপোস্টের মাধ্যমে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে দেওয়া নির্দেশনাগুলো পালনে কাজ করবে পুলিশ।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যানচলাচলে ঢাকাবাসীর কোনো বাধা নেই। তবে যে যেভাবেই চলাফেরা করুক, তাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্বসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ডিএমপি ব্যবস্থা নেবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •