শাহেদ মিজান, সিবিএন:
দুর্নীতি দমন মামলায় গ্রেফতার হওয়া কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেল ও কক্সবাজারে সাবেক অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বিজয় কুমার সিংহকে পাঁচদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ ইসমাঈল দুদকের করার আবেদন মঞ্জুর করে এই তিন আসামীকে পাঁচদিনের রিমান্ড দেন।
দুদকের পিপি আবদুর রহিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় টাকা উত্তোলনের দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেল ও কক্সবাজারে সাবেক অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বিজয় কুমার সিংহের রিমান্ড আবেদন করেন দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পৃথকভাবে গত ৩১ মার্চ মিজানুর রহমান ও জাবেদ কায়সার নোবেলের এবং আজ রোববার বিজয় সিংহের জন্য পাঁচদিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানীতে আদালত পাঁচ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করার অভিযোগে দুদকের করা অপর মামলায় গত ২৮ মার্চ গ্রেফতার হন কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌরসভার কর্মচারী দিদারুল ইসলাম। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল জমি অধিগ্রহণ দুর্নীতি মামলায়ও গ্রেফতার দেখায় দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দালাল মো. সেলিম উল্লাহর দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠেছে এসেছে সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেলের নাম। তিনি অধিগ্রহণ শাখার দালালদের অর্থ বিনিয়োগ করতেন বলে তথ্য পেয়েছে দুদক। নোবেল ও তার স্ত্রী শামীমা ইয়াছমিনের নামে মোট ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৮ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ কোটি ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৭৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে। ওই সম্পদ তিনি ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন। উল্লেখিত সম্পদ ক্রোক/ফ্রিজপূর্বক দুর্নীতি দমন কমিশনকে রিসিভার নিয়োগ করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ঘুষ নিতেন কাউন্সিলর মিজানুর রহমান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •