বার্তা পরিবেশক:

আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করে পেকুয়ায় সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিরোধীয় চাষের জমি থেকে অন্যায়ভাবে মাটি (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুলসহ ০২ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে পৃথক দুটি এম আর মামলা রুজু করা হয়। যার নম্বর এম আর ৮৪৪/২০২১ ও ৯১১/২০২১। মামলার বিবাদী নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুলের ভাই জহিরুল ইসলামসহ ০৯ ভাইবোনের মধ্যে ০৭ ভাই বোন মিলে মামলা দুটি করেন । মামলা দুটি বিচারিক আদালত আমলে নিয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি), পেকুয়ায়কে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য দায়িত্বভার ন্যস্ত করা হয়েছে। স্থিতি অবস্থা বিদ্যমান ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পেকুয়া থানাকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিরোধীয় জমি থেকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে দিবারাত্রি বুলডোজার চালিয়ে মাটি লুট করা নিয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের আমিলাপাড়াস্থ মরহুম নূরুল হক সিকদারের ওয়ারিশদের মধ্যে দ্বন্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। পৈত্রিক সম্পত্তির এজমালি অংশ থেকে কাউকে অবহিত না করে অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল জমির টপ সয়েল বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। মাটি কাটা ও এর প্রতিহত করাকে কেন্দ্র করে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। আদালতের আদেশমতে পেকুয়ায় থানার এস আই শাহ আলমসহ একটি পুলিশ টিম গত ০১ এপ্রিল ২০২১ উক্ত স্থান টেকঘোনায় যান এবং মাটি কাটা বন্ধ করেন। এমনকি মাটি কাটা ও পরিবহনে নিয়োজিত স্কেভেটর ও পিকআপ সরিয়ে ফেলা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, পুলিশ স্থান ত্যাগ করার সাথে সাথেই আধাঘন্টার ব্যবধানে পূনঃরায় মাটি কাটা আরম্ভ করে দেয়। এ ব্যাপারে এম আর মামলার বাদি জহিরুল ইসলাম গং বিকেলে থানায় গিয়ে ওসি তদন্ত ও জৈষ্ট্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

এব্যাপারে মামলার বাদিদের পক্ষে জহিরুল ইসলাম বলেন, সম্পত্তি এখনো বন্টন হয়নি। বিবাদি তার একক সম্পত্তির উপর বুলডোজার চালালে আমাদের কারোও কোন আপত্তি থাকত না। কিন্তু তিনি আমাদের ০৯ ভাইবোনের সম্পত্তির মধ্যে এককভাবে কাউকে না জানিয়ে এবং পরবর্তিতে বাধা দেওয়া সত্ত্বেও বাধা তোয়াক্কা না করে জায়গার জমির মাটি বিক্রি করে মাটির ধরণ পরিবর্তনসহ জায়গার সীমানা চিহ্ন পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলছেন। এহেন জগন্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি এবং মামলা করেছি। পুলিশ গিয়েছিলেন তবে ১৪৪ ধারার পক্ষে ভূমিকা দেখেছি দূর্বল। আমরা শান্তিপ্রিয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ। আইনের আশ্রয় নিয়েছি। বিচারিক আদালত শান্তি শৃংখলা বজায়ের জন্য পুলিশকে আদেশ দিয়েছেন। পুলিশের কাজ নীতিগতভাবে আন্তরিকতার সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো। আশা করছি তারা আমাদের পাশেই থাকবেন। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। আইনের বিরুদ্ধে যাওয়া আমাদের কাজ নয়। যদিও বিবাদি গং তার অপশক্তি কাজে লাগিয়ে যথারীতি তা-ই করে চলেছেন।
পেকুয়া থানার এস আই শাহ আলম জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, কাজ না করতে নিষেধ করেছি। আমরাতো আর সারাদিন বসে থাকতে পারবোনা ওখানে।

পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত কানন সরকার বলেন, শান্তি শৃংখলা বজায় রাখাই পুলিশের কাজ। আইন অমান্য করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •