মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রামণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে কক্সবাজার জেলায় গড়ে ৩৫ জনের অধিক করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে কক্সবাজারে করোনা সংক্রামণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে জড়িত অভিজ্ঞ একজনর মন্তব্য হলো-হোম আইসোলেসনে যেসব করোনা রোগী আছেন, তারা কতটুকু আইসোলেসন মানছেন-সেটা একটা সুষ্ঠু পর্যবেক্ষনের বিষয়। এ ব্যাপারে কঠোর তদারকি থাকতে হবে। কারণ দেহে করোনা শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী হোম আইসোলেসনে রয়েছেন। অনেক রোগী ‘আইসোলেসন’ কি সেটাও জানেনা। এ বিশেষজ্ঞের মতে, আক্রান্তদের অধিকাংশকে সরকারী উদ্যোগেই প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেসনে নিয়ে আসা দরকার। যারা হোম আইসোলেসনে থাকবেন তাদের যথাযথ আইসোলেসন সুনিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আগের মতো কন্ট্রাক ট্রেসিংও খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষককে সময় থাকতে আরো বেশী তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞজন।

এদিকে, শুধুমাত্র গত বুধবার ৩১ মার্চ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে কক্সবাজার জেলার ৪২ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে গত বুধবার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫ শত ১৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে ১০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ১’২৭%।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিয়া হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বুধবার ৩১ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলা ৩ হাজার ১৫৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। ৩৪৪ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী সহ মোট ৯৭৯ জন করোনা রোগী নিয়ে উখিয়া উপজেলা দ্বিতীয় শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। ১০২ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী সহ মোট ৬১৫ জন করোনা রোগী নিয়ে টেকনাফ উপজেলা তৃতীয় শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। ৫৬৬ জন করোনা রোগী নিয়ে চকরিয়া উপজেলা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ৪৫৮ জন করোনা রোগী নিয়ে রামু উপজেলা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ৪১৫ জন করোনা রোগী নিয়ে মহেশখালী উপজেলা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ২২৫ জন করোনা রোগী নিয়ে পেকুয়া উপজেলা সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ৯৭ জন করোনা রোগী নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার ৩১ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে ৬ হাজার ৫ শত ১৪ জন আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৭৭১ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮৮’৫৯%। আক্রান্তদের মধ্যে গত বুধবার ৩১ মার্চ পর্যন্ত হোম আইসোলেসনে রয়েছেন ৬০৫ জন, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেসনে রয়েছেন ৮৮ জন। তারমধ্যে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেসনে রয়েছেন ২৪ জন, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেসনে রয়েছেন ৫ জন, ফ্রেন্ডশিপ SARI হাসপাতালে রয়েছেন ১১ জন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে আইসোলেসন সেন্টার সমুহে রয়েছেন স্থানীয় জনগণ ২৫ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী রয়েছেন ২৩ জন।

এদিকে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে একই সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক করোনা রোগীর নমুনা টেস্ট করা হয়েছে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার ৫৩৯ জনের। তারমধ্যে, কক্সবাজার জেলার নাগরিকদের নমুনা ৬৯ হাজার ৪৭৭ জনের। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নমুনা ৩৪ হাজার ৩৯৩ জনের। চট্টগ্রাম জেলার নাগরিকদের নমুনা ১০ হাজার ৯৩৬ জনের এবং বান্দরবান জেলার নাগরিকদের নমুনা ৫ হাজার ৭৩৩ জনের।

এদিকে, বুধবার ৩১ মার্চ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ৪০৪ জনের নমুনা টেস্ট করে ৪৩ জনের টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া গেছে। বাকী ৩৬১ জনের নমুনা টেস্ট রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার শনাক্ত হওয়া ৪৩ জন করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার জেলার রোগী ৪১ জন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ১ জন এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ১ জন রোগী রয়েছে।

কক্সবাজার জেলার ৪১ জন রোগীর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮ জন, রামু উপজেলায় ৩ জন, উখিয়া উপজেলায় ২ জন, টেকনাফ উপজেলায় ৫ জন, চকরিয়া উপজেলায় ২ জন ও মহেশখালী উপজেলার ১ জন রোগী রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •