কালেরকন্ঠ: সাদা পোশাকে থাকা কোনো বাহিনী বা সংস্থার সদস্যরা পিস্তল বা বন্দুকজাতীয় অস্ত্র দেখিয়ে বহন করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গাড়িসহ সব গাড়ি বাধ্যমূলক নিবন্ধন করতে হবে। সচিবালয়ে শুধু যথাযথভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত গাড়িই প্রবেশ করবে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্ররক্ষার (প্রটেকশন) গাড়ির অনুমোদন না থাকলে সচিবালয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই সব বিষয়ে সরকারি আদেশ, নির্দেশ, পরিপত্র আছে কি না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত নয়। যদি থাকে তাহলে এসব বিষয় যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আর না থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) নম্বরবিহীন গাড়ি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ছাড়া সচিবালয়ের ভেতরে যেসব গাড়ি চলে সেগুলোর বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়, জনসমাগমস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এবং প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দেহরক্ষী, গানম্যান সাদা পোশাকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬’তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন সম্পর্কিত বিষয় উল্লেখ থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সাদা পোশাকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন বিষয়ে কিছু বলা নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সাদা পোশাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন বিষয়ে কোনো নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র বা নির্দেশ জারি করা হয়েছে কি না তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অবহিত নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ছাড়া গানম্যানসহ প্ররক্ষার গাড়ি ব্যবহার ও প্রাধিকারের বিষয়ে কোনো বিধি বা নির্দেশনা আছে কি না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার স্টিকার ব্যবহার করে নিবন্ধন ও নম্বরবিহীন গাড়ির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এগুলো নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী। আগ্নেয়াস্ত্র, প্ররক্ষার গাড়ি, বিআরটিএর নম্বরবিহীন গাড়ি এবং সচিবালয়ে ঢোকার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকারবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, সাদা পোশাকে থাকা অবস্থায় অস্ত্র প্রদর্শন করে চলার বিষয়টি অনেকের নজরে এসেছে। বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরা অবস্থায় যথাযথ নিয়মেই অস্ত্র প্রদর্শন করেন। কিন্তু সাদা পোশাকে থাকা অবস্থায় অস্ত্র সঙ্গে থাকলে সেটি ঢেকে রাখার নিয়ম উন্নত দেশগুলোতে অনুসরণ করা হয়। না হয় এই সুযোগে অননুমোদিত লোকজনও অস্ত্র প্রদর্শনের সুযোগ নিয়ে মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন জনসমাগমের জায়গায় গেঞ্জি পরা অবস্থায় অনেক ব্যক্তির কোমরে ছোট অস্ত্র দেখা যায়। বিষয়টি শিশুসহ সবার জন্যই অস্বস্তিকর। তাদের পরনে পরিচয়জ্ঞাপক পোশাক না থাকায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই এই বিষয়টিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা দরকার।

অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, কোনো বাহিনীর সদস্যের ক্ষেত্রে ওই বাহিনীর পোশাক পরা অবস্থায় অস্ত্রসহ দেখলে সমস্যা মনে হয় না। কিন্তু সাদা পোশাকে হঠাৎ কোমরে অস্ত্র দেখা গেলে ভীতির সৃষ্টি হয়। আবার অনেক অনুমোদিত ব্যক্তি সাদা পোশাকে কোমরে অস্ত্র রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে গেঞ্জি বা শার্ট উঠিয়ে রেখে অস্ত্রটি প্রদর্শন করেন। এটা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •