নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুনগত শিক্ষাব্যবস্থার পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলের শিশুরা। উপকূল যেন শিশুদের প্রতিকূল। নেই কোন সুযোগ সুবিধা। পুষ্টিকর খাবার, উন্নত জীবনমান বলতে তাদের স্বপ্ন।

প্রতিটি শিশুর শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে, কিন্তু উপকূলে জন্ম নেওয়া শিশুদের ভাগ্য যেন তার প্রতিকূলে। কেননা, তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের টাকা দিয়ে শহরে তৈরী করা হয় ফুট-ওভার ব্রীজ কিংবা বড় বড় নেতাদের জন্য করা হয় বিনোদনের ব্যবস্থা। যদিও একটি শিশুর উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

কক্সবাজার পৌরসভার পশ্চিম কুতুবিদয়াপাড়ার বাসিন্দা সাঈদুল ইসলাম মনির বলেন, সরকারিভাবে উপকূলের সিংহভাগ শিশুরা গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। এখানে নিরক্ষরতার হার দিন দিন বাড়ছে এবং সকলের মাঝে কমছে সচেতনতা। তাই বাল্যবিবাহ এবং মাদকাসক্তির মত জঘন্যতম অপরাধ উপকূলের নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

আমি মনে করি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারিভাবে শিশুদের জন্য গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলে সচেতনমূলক বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই এখানে সকলের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সমীক্ষা বলছে, উপকূলের শিশুরা মেধাবী, কৌতুহলী, কর্মঠ এবং প্রতিভা সম্পন্ন হয়। এর পরেও, আমাদের দেশের অধিকাংশ শিশুরা তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের যে অধিকারটুকু রয়েছে তা থেকে বঞ্চিত। যার এক-তৃতীয়াংশই দরিদ্র এবং উপকূলীয় পরিবারের সন্তান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপকূলের অনেক সিংহভাগ শিশু পড়ালেখা করার সুযোগ পায় না। বাংলদেশের লক্ষাধিক পরিবারের বসবাস চর এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীবহুল অঞ্চলগুলোকে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। যেমন: অন্যতম সমস্যা বন্যা। এখানে স্কুলগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং সেখানে পৌঁছানোও বেশ কঠিন। সরকারিভাবে নানাধরনের সুযোগ সুবিধা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সে সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত উপকূলের শিশুরা।

সম্প্রতি উপকূলের শিশুদের জীবনমান কি অবস্থা, তা স্বচক্ষে দেখেন ক্লাইমেট জাস্টিস বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ জাবেদ নূর শান্ত। কথা বলেন শিশু, স্বজনদের সঙ্গে।

জলবায়ুযোদ্ধা শান্ত নূর বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম বাহবা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অবহেলায় উপকূলের শিশুরা তাদের ন্যায্যতা থেকে যেভাবে বঞ্চিত হচ্ছে, সরকার কর্তৃক বিষয়টি কে যদি গুরুত্ব সহকারে দেখা নাহয়, তাহলে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যত ধ্বংসিত হবে বলে আমি মনে করি। সুতরাং, একটি শিশুর উন্নত ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •