নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাক্তন স্ত্রী ও তার আজ্ঞাবহ লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মলেন করেছেন চকরিয়ার ডুলাহাজারার তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ নামের এক যুবক ও তা পরিবারের লোকজন। প্রাক্তন স্ত্রী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখল চেষ্টা, হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগীদের চরমভাবে অত্যাচার ও হয়রানি করছেন। অভিযুক্তদের সহযোগিতার করছেন চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান।
বুধবার (৩১মার্চ) কক্সবাজার শহরের এক হোটেল কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলেন এই অভিযোগ করা হয়।
 
সংবাদ সম্মলেন লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন। আমার সাথে ২০১৩ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় চট্টগ্রামের জুবলী রোডস্থ মৃত জামাল আহমদের কন্যা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা রোজিনা আক্তারের সাথে। তখন আমি ব্যাংকার পেশায় কর্মরত ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই বিয়েই আমার এবং আমার পরিবারের উপর ভর অমানিশায় কালো মেঘ নিয়ে আসে। বহুগামী স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার স্ত্রীর অভিনয় করে আমার থেকে হাতিয়ে নেয় ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, ৭টি ব্যাংকের খালি চেক, জায়গা-জমি বহু কাগজপত্রাদি ও সহায় সম্পত্তি। পরবর্তীতে সব হাতিয়ে প্রতারক রোজিনা বিগত ২০১৭ সালে আমাকে তালাক দেয়। আমাকে তালাক দেয়ার পরপরই রোজিনা বেছে নেয় অন্যপথ। ডুলহাজারার বিভিন্ন গ্রামের হত্যা, লুটতরাজ, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ঘের ডাকাতিসহ বহু মামলার আসামী জাকের হোছাইন ওরফে ছোট জাকের, নুরুল আবছার, আলী আহমদ, রুহুল আমিন ও কমর উদ্দিনকে লাঠিয়াল হিসেবে হাতে দেয়। রোজিনার চক্রটি বায়না নামার কথা তুলে চলতি বছরের ২, ৪, ও ৬ জানুয়ারী রাতের আঁধারে এবং দিন দুপুরে ডুলহাজারার ৭নং ওয়ার্ড মাইজপাড়াস্থ আমাদের যৌথ পরিবারের বসত ঘর ও ভিটে বাড়ি দখল নিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে আমার বৃদ্ধা মা, বাবা, ভাড়াটিয়া ভাই-বোনসহ ৬ জন আহত হয়। আহত অবস্থায় চকরিয়া সরকারী হাসপাতাল হইতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এতে আসামীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে আমার বাবা হামিদুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে লোমহর্ষক এই ঘটনার সত্যা-সত্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করে চকরিয়া থানা পুলিশ।

তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ অভিযোগ করে বলেন, রোজিনা তার ভাড়াটে মাস্তান জাকের হোছাইন ওরফে ছোট জাকের, নুরুল আবছার, আলী আহমদের সমন্বয়ে গড়া চক্রটি উল্টো আমার নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আজগুবি গল্প সাজিয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মিথ্যা মামলাটি সম্প্রতি কক্সবাজার শহরে টাকা লুটের ঘটনায়, কারাগারে আটক ‘‘এসআই নূরে হুদা সিদ্দিকী’’ এক এসআই এর হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব পান চকরিয়া থানার এসআই মোঃ কামরুজ্জামান। দু’জনই আমাদের পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় এসআই কামরুজ্জামান ঘটনার তালগোল পাকিয়ে সম্প্রতি আমাদের বিরুদ্ধে কথিত বাদী আলী আহমদের পক্ষ হয়ে তদন্ত বিহীন মিথ্যা প্রতিবেদন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করে।

তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ আরো বলেন, বহুরূপী রোজিনা এতেও থেমে থাকেনি। স্ত্রীর অভিনয় করে আমার কাছ থেকে গচ্ছিত রাখা খালি চেকের ব্যবসা শুরু করেছে । সে ডুলহাজারার দক্ষিণ বালুরচর গ্রামের মৃত নজির হোছাইন এর পুত্র জাকের হোছাইন ওরফে ছোট জাকের এর হাতে তুলে দেয় আমার খালি চেক। রোজিনার কথায় জাকের এরই মধ্যে কথিত ৮ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা সাজিয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ফৌজদারী দরখাস্ত দায়ের করে। যা এখন তদন্তাধীন আছে।

অত্যাচারের কথা জানিয়ে তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, আমরা বাবা-মায়ের সব সন্তানই সু-শিক্ষিত। এক রোজিনাই আমাদেরকে পথে বসিয়েছে।
আমি ও আমার পরিবার প্রতারক রোজিনা ও তার লালিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে প্রশাসনের কাছে আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদের বাবা হামিদুল হক, মা কক্সবাজারের জয় বাংলা বাহিনী ৭১ এর কমান্ডার কামাল হোসেন চৌধুরীর আপন ভাগনী লতিফা খানম ও আহত ছোটভাই তৌহিদুল হক।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •