সময়নিউজ: পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

সোমবার (২৯ মার্চ) রাতে নগরীর ডিআইটি এলাকায় রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসল্লিদের সামনে এমন ঘোষণা দেন তিনি। এসময় মাওলানা আব্দুল আউয়াল দলীয় নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনা মানছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণার বিষয়টি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল নিজেই।

তিনি বলেন, ‘আমি সব মুসল্লির সামনে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমি কোনো নেতৃত্বে থাকবো না। আমার নেতৃত্ব না মেনে কর্মীরা কার্যক্রম চালায় সুতরাং নেতৃত্বে থাকার কোনো কারণ নেই। সোমবার কেন্দ্রীয় দোয়া কর্মসূচি ডিআইটি মসজিদে করার কথা থাকলেও দলের কিছু নেতা মিলে দেওভোগ মাদরাসায় সে আয়োজন করেছেন। আমার কথা কেউ শোনে না। আমি আর কোনো দলে থাকতে চাই না। হেফাজত, ওলামা পরিষদ সবকিছু থেকে পদত্যাগ করেছি। মৌখিকভাবে কেন্দ্রে তা জানিয়েছি। তারা লিখিত চাইলে তাও দেব।

আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে বলছি আমি আর দল করবো না। তোমাদের হেফাজতের সাথেও কিছু করবো না। আমি এমনিতেই মসজিদে থাকব। আমি আর কোনো কাজে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে যাব না। তাদের বলছি, তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা করো যাও। আমার এখন বয়স হয়েছে, অসুস্থ মানুষ, চলাফেরা করতে পারি না, তাই আমি আর হেফাজতের নেতৃত্ব দেব না। আমি কর্মী হিসেবে থাকব, নেতৃত্বের মধ্যে নাই। সংবাদ সম্মেলন কইরা ইস্তফা দিয়া দিব। আমি আর হেফাজতের নেতৃত্ব দেব না। যার কারণে আজকে দোয়া ছিল ডিআইটি মসজিদে সেটা না করে তারা দোয়ার আয়োজন করছে দেওভোগ মসজিদে। এটা কইরা তারা অটোমেটিক আমারে সাইড কইরা দিছে। এমন নেতা দিয়া তাগো চলবো না। আমিও আল্লাহর ওয়াস্তে নেতৃত্ব ছাইড়া দিলাম। শবে বরাতের রাত্রে আপনাদেরকেও আমি জানায় দিলাম ইস্তফা দিয়ে দিচ্ছি। হেফাজতের আমির বা কোনো কিছু দরকার নাই। যতদিন বেঁচে আছি সাধারণ মুসল্লি হিসেবে থাকবো। আমার পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচিতে আপনাদের কাছে ডাক আসবে না। অন্যান্য যারা আছে তারা ডাক দিবে। তাদের ডাকে আপনারা আসবেন।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল আরও বলেন, তারা আমারে বলতাছে কেন আমি ব্যারিকেড ভেঙে তাদের নিয়ে মিছিলে গেলাম না। আমি যদি তাদের নিয়ে বের হইতাম তাইলে লাশ পড়ে যাইতো কয়েকটা। ডিআইটি মসজিদের যে গ্লাসগুলা আছে একটা গ্লাসও আস্ত থাকতো না, যদি বাইর হইতাম। পরে সবাই বলতো এরে কে বলছে নেতৃত্ব দিতে। এরে তাড়াতাড়ি এখন থেকে উৎখাত করো এটা বলতো। তখন আইভীও বলবে, অমুক তমুকেও বলবে এরে সরানোতে সুবিধা হইছে। যদি লাশ পইড়া যাইতো আপনারাও বলতেন এরে কে নেতৃত্ব দিছে মায়ের বুক খালি করতে।

মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আব্দুল আউয়াল বলেন, এখন আমি কোন দিকে যাবো? এইদিকেও যেতে পারি না, ওইদিকেও যাইতে পারি না। তাই আমি জিম্মাদারি ছাইড়া দিলাম। কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে কখনো আর ডাকবো না। যাদের শক্তি আছে তাদের নেতৃত্বে কাজ করো। আমি তোমাদের সাথে থাকবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •