দেশে এলো নতুন দল, নাম তার ‘নৈতিক সমাজ’

প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২১ ০৮:২০

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি : এনটিভি

সিবিএন ডেস্ক:
‘নৈতিক সমাজ’ নামের নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ম স আ আমিন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নৈতিক জাগরণ, রাজনৈতিক সংস্কার, সাংবিধানিক সুশাসন, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি রোধসহ সমাজের নানা পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ‘নৈতিক সমাজ’ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আ ম স আ আমিন। তাঁকে সভাপতি করে ‘নৈতিক সমাজ’-এর ৫০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আ ম স আ আমিন ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি গণফোরামে যোগ দিয়ে একই আসন থেকে নির্বাচন করেন। এবার নিজেই একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিলেন।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

ড. কামাল হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ সৎ ও সত্যের পক্ষে। এই জিনিসটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য তরুণ সমাজকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের সমর্থনই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। অসত্য, অনৈতিক, অসৎ মানুষদের সাধারণ জনগণ মেনে নেয় না, তাদের ঘৃণা করে। এজন্য অন্যায়, অসত্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এসব থেকে সবাইকে মুক্ত করতে হবে।

ড. কামাল বলেন, আজ যে দলটি এলো সেখানে যেন অসৎ মানুষদের নেওয়া না হয়। সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলে আমি মনে করি অন্যায়ের পক্ষের শক্তি পরাজিত হবে।

নতুন দল গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আ ম স আ আমিন বলেন, দল অনেক আছে, কিন্তু বেশির ভাগই সমস্যার অংশ। ৫০ বছরে তারা সমাধানের অংশ হতে পারেনি। সব সমস্যার মূলে রয়েছে অসুস্থ, অনৈতিক, অসৎ ও ভ্রষ্ট রাজনীতি। অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও রাজনীতি ও সমাজ সংস্কৃতির ভয়ানক অধপতন ঘটেছে। সৎ, মেধাবী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের খুবই প্রয়োজন। এসব প্রয়োজন পূরণ করতেই নতুন দল হিসেবে ‘নৈতিক সমাজ’ গড়ে তোলা হয়েছে।

সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, নৈতিক সমাজ বলিষ্ঠভাবে জনগণের মধ্যে বিচরণ করে দলকে জনপ্রিয় করে তোলার আশা রাখে। নৈতিক সমাজের রোডম্যাপ, সংক্ষেপে: ২০২১ সাল হবে সাংগঠনিক ও নিবন্ধনের বছর। ২০২২ হবে ব্যাপক প্রচার ও জনসমর্থন সৃষ্টির বছর। ২০২৩ সাল হবে নির্বাচন প্রস্তুতির বছর। আর ২০২৪ সালে বেশ কিছু আসন জিতে নিয়ে নৈতিক সমাজ শুরু করবে ভিশন/মিশন অর্জনের সংগ্রাম- দুই প্রজন্মের মধ্যেই বাংলাদেশকে তৃতীয় থেকে প্রথম বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম।

নৈতিক সমাজের নতুন উদ্যোগের সফলতা কামনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের জ্ঞানের চোখ বন্ধ হয়ে গেছে, আমরা সত্য জানছি না। অনেক দেশ আমাদের শাসন করেছে। আমরা গাড়ি ভাঙচুর চাই না, উন্মাদনা চাই না, কথা বলার ও আমার বক্তব্য তুলে ধরার অধিকার চাই। এভাবে তো একটা দেশ চলতে পারে না। সে লক্ষ্যেই আজ নৈতিক সমাজের জন্ম। তাদের এই জন্মকে শুভকামনা জানাচ্ছি। এর মাধ্যমেই জেগে উঠবে বাংলাদেশ। আমরা পৃথিবীর এক নম্বর রাষ্ট্র হতে চাই না, আমরা বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা চাই। সমাজের প্রতিটা মানুষ যেন সুফল পায়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের এক বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল দেশে আসতে চান, কিন্তু ভিসা জটিলতায় আটকে আছেন। আমাদের উন্নত রাষ্ট্র হয়ে লাভ কী তার সুফল যদি সাধারণ মানুষ না পায়। হতাশা বাদ দিয়ে আমাদের জেগে উঠতে হবে, এর মধ্যেই আমাদের মুক্তি।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, নতুন কিছু দেখলে আশান্বিত হতে চাই। সমাজ থেকে আমরা নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। নৈতিকতা না থাকলে কিছুই থাকে না। নৈতিকতা থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।

সংবাদ সম্মেলনে নৈতিক সমাজের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন, মেজর (অব.) মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, তফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মারুফ খালেদসহ কয়েকজন নেতা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •