অনলা্ইন ডেস্ক:

ঢাকা: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ১ লাখ ৪৭ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। একইসঙ্গে ১৯১ জন শহিদ বুদ্ধিজীবির তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বুদ্ধিজীবিদের এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রাথমিক তালিকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতাসহ বরিশাল বিভাগের ১২ হাজার ৫৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০ হাজার ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগের ৩৭ হাজার ৩৮৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ৫৮৮ জন, খুলনা বিভাগের ১৭ হাজার ৬৩০ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৩ হাজার ৮৮৯ জন, রংপুর বিভাগের ১৫ হাজার ১৫৮ জন ও সিলেট বিভাগের ১০ হাজার ২৬৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থান পেয়েছেন এই তালিকায়।

এছাড়া প্রথম ধাপে ১৯১ জন শহিদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের বাকি তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

তালিকা প্রকাশের পর মন্ত্রী বলেন, কারও কারও নাম তদন্তাধীন রয়েছে। আগে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, এমন অনেকে অভিযোগ করেছেন বা আপিল করেছেন। সেগুলো আপাতত বাদ থাকবে। তদন্ত নিষ্পত্তি হলে সেসব নাম তালিকায় যুক্ত করা হবে। তবে এই বাদ থাকাদের সংখ্যা সাারাদেশে তিন থেকে চার হাজারের বেশি হবে না।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এতদিনেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে না পারা তো ব্যর্থতা বটেই। আমরা ক্ষমতায় এসে এই মন্ত্রণালয়ে সঠিকভাবে কোনো কাগজপত্র পাইনি। দেখা গেছে কারও গেজেটে নাম আছে, কিন্তু তালিকায় নাম নেই, নথিতে নেই। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যা তা অবস্থা করেছে। আবার মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা নিয়েও বিভ্রান্তি ছিল। ২০১৮ সালে আইন পাস হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ওপরে তালিকা তৈরির দায়িত্ব আসে। আমরা সর্তকতার সঙ্গে কাজ করি। ভারতীয় তালিকায় যাদের নাম আছে, সেগুলোকে বেজলাইন ধরে কাজ শুরু করি। তারপর লালমুক্তি বার্তা ও অন্যান্য তালিকার নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। জানা যায়, যাচাই কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি সেলও গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) আট কর্মকর্তাকে আট বিভাগের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর বাইরে সারাদেশে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি যাচাই-বাছাই কমিটি কাজ চালিয়ে নিতে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সারাদেশে একযোগে জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বেসামরিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৯৬১ জনের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে এরই মধ্যে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৩৮৬ জনে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, এখন নতুন করে কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকায় যুক্ত করার সুযোগ নেই। যারা বাদ পড়েছেন, তারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। তবে জানা গেছে, ২০১৪ ও ২০১৭ সালে যেসব মুক্তিযোদ্ধা জামুকায় আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনগুলোর শুনানি চলছে। – সারা বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •