এইচ এম রিয়াজ, পেকুয়া:
মানবিক সংকটের এই কালেও কেউ কেউ মানবতার ছাতা ধরেন অসহায় মানুষদের মাথার । এমনই একজন পেকুয়া সদরের সিকদার পাড়া মৌলভী বাড়ীর মরহুম মাষ্টার এহছানুল হকের ছেলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কফিলুজ্জমান এর সহধর্মিণী চট্টগ্রামের হাটহাজারী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র সহঃ শিক্ষিকা পারভিন আক্তার।
তিনি দেখিয়ে দিলেন একজন মানষিক প্রতিবন্ধীর প্রতি কিভাবে মানবতা দেখাতে হয়। একজন পাগলীকে রাস্তা থেকে নিয়ে তার ঘরে যে মানবতা দেখিয়েছেন তা দেখার মত ও নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
ওই শিক্ষিকার ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায় একজন ১০ বছরের পাগলিকে ঘরে তুলে তার পায়ের নক কেটে দিচ্ছেন, সেই সাথে তাকে গোসল করে কাপড় পড়িয়ে দিচ্ছেন। নিজ হাতে তাকে খাবার দিচ্ছেন। আবার কোন সময় মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন।
পারভিন আক্তার বলেন, বাসা থেকে স্কুলে যাতায়াতের সময় আমি ওই পাগলিকে ভয় পেতাম। হঠাৎ একদিন তাকে দেখে খুব অসহায় মনে হলো। তাই সাহস করে বাসায় নিয়ে গেলাম। পরে দেখি সে একদম শান্ত মেজাজি। আমি তাকে আমার বাসায় নিয়ে আসার পর নখ কাটা থেকে শুরু করে গোসল করাই দিয়ে সব কিছুই পরিস্কার করে দিয়ে খাবার দিলাম। পাগলি আমাকে আপু আম্মু বলে সম্বোধন করতে লাগল।
সে পরের দিন আবার আমাকে দেখে কান্না করতে করতে বললো মা-মনি চুল কাটব। আমি তাকে চুল কেটে দিলাম। তারপর গোসল করায়ে দিয়ে নতুন কাপড় পড়িয়ে ভাত খেতে দিলাম।

সে আরো বলেন, এই কাজে আমাকে আমার স্বামী কফিল সাহেব অনেক উৎসাহ ও সাহায্য করেন। সেই ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার পর আমার সহকর্মী, প্রতিবেশী, ফেসবুক বন্ধু সহ সবাই আমাকে যে ভাবে উৎসাহিত করেছেন তাতে এই মানবতার কাজে আমার আগ্রহ আরো বেশী বেড়ে গেল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •