আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও :

কক্সবাজারের চৌফলদন্ডী -পোকখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে অবৈধ খামার গড়ে তোলার সংবাদ ফলাও করে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে অবৈধ দখলদার খামার মালিকদের কাছ থেকে বছরের পর অবৈধ সুবিধা আদায়কারী পাউবো’র কতিপয় দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন ব্যাবস্থাপনা দল। এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর কক্সবাজার পাউবো কতৃপক্ষ কি ব্যাবস্থা নিচ্ছে তা জানতে কক্সবাজার পাউবো কতৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী প্রবীর কুমার গোস্বামী এবং এস.ও.নারায়ন বাবুর মোবাইলে বারবার কল দিলেও রিসিভ করেনি।এদিকে উপকূলীয় জনপদের সচেতন জনগণ জানান,পাউবো’র কতিপয় দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে উপকূলীয় জনপদের লাখো জনগোষ্ঠী অবৈধ দখলদারদের কারণে পূর্ণিমার প্রবল জোয়ার ও জলোস্বাসের অস্বাভাবিক পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পুরো উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় বছরের পর বছর নির্ঘুম আতংকে রাত যাপন করছে।এমন কি এ খামারকে কেন্দ্র করে ঐ স্থানটি ইয়াবা তথা মাদকের চালান পাচারের ট্রানজিট হিসেবেও ব্যাবহার হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা শংকা প্রকাশ করছে। তাই তারা অবিলম্বে জনক্ষতিকর ও সরকারের সম্পদ ধ্বংসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য,বিগত কয়েক বছর পূর্বে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী-পোকখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধস্থ সদরের ৬/৬৩ নং পোল্ডারের আওতাধীন S -10 স্নুইস গেইটের পোকখালী আশু মাঝি ঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের বিশালাকার জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে তাতে গড়ে তুলে স্থানীয় জকরিয়া ও আবু বকরের নেতৃত্বে বিশালাকার অবৈধ খামার। এ চক্রটি সেই থেকে কক্সবাজার পাউবো’র কতিপয় কর্মকর্তা,কর্মচারী ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন ব্যাবস্থাপনা দলের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদককে মোটা অংকে ম্যানেজ করে এ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।যদিওবা খামার গড়ে তুলা চক্রের জকরিয়া এবং আবু বক্কর দাবি করে আসছে তারা সেই থেকে কক্সবাজার পাউবো থেকে জায়গাটি লিজ নিয়ে নিয়মিত সরকারি রাজস্ব আদায় করে আসছে।গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যে প্রকাশ,পাউবো’র কর্মকর্তারা নিয়মিত এ চক্র থেকে অবৈধ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বছরের পর বছর সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।পাউবো’র রক্ষক রুপি ভক্ষক এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রধান কুশীলব হচ্ছে তিনদশক ধরে কক্সবাজার পাউবোতে কর্মরত এস.ও নারায়ন বাবু। একই স্থানে দশকের পর দশক কর্মরত থাকায় তার সাথে গভীর সখ্য গড়ে উঠেছে উপকূলীয় সরকারি বনজ,ভূমি ও বেড়িবাঁধ ধ্বংসে জড়িত চক্রের সাথে। নিয়মিত তাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে সরকারের উপকূলীয় সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। যার কারণে জেলার পাউবো’র অধীন পুরো উপকূলীয় এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •