নাছির উদ্দিন আল নোমান:
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী -পোকখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের জায়গায় অবৈধ খামার গড়ে তুলেছে স্থানীয় একটি চক্র। এ কাজে কক্সবাজার পাউবো’র কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌফলদন্ডী-পোকখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধস্থ সদরের ৬/৬৩ নং পোল্ডারের আওতাধীন S -10 স্নুইস গেইটের( পোকখালী আশু মাঝি ঘাট সংলগ্ন) দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধের পূর্বাংশের মুল্যবান জায়গার উপর বিশালাকারের হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলেছে জকরিয়া ও আবু বকরের নেতৃত্বাধীন চক্র। প্রথম দিকে পাউবো’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বেড়িবাঁধের কিছু জায়গা অবৈধ দখল করে এ কাজ শুরু করে বলে তারা দাবি করে। পরে বেড়িবাঁধের আশ পাশের বিশাল খালি জায়গা জুড়ে এ অবৈধ খামার গড়ে তুলেছে চক্রটি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অবৈধ খামার চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। স্থানীয়রা জানান, উক্ত দুই লোক পাউবো’র কতিপয় দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাকে নিয়মিত অবৈধ টাকা দিয়ে এ অপকর্ম করে চলছে। প্রদত্ত ঐ টাকা এ দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পাউবো’র সরকারি রাজস্বের হিসাবে না দেখিয়ে বছরের পর বছর আত্মসাৎ করে চলছে। এলাকায় প্রচার আছে ,এসব অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নির্দিষ্ট পরিমাণ বেড়িবাঁধের জায়গা মাছ চাষের জন্য পাউবো থেকে লিজ নেয় চক্রটি। কথিত লিজের দেহাইয়ে চক্রটি উক্ত অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে নির্দিষ্ট জায়গার অতিরিক্ত বিশালাকার জায়গা দখল করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাঁস-মুরগির অবৈধ খামার চালিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। এমনকি কয়েক বছর পূর্বে লিজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও অনৈতিক সুবিধা নেয়া অসাধু পাউবো কর্মকর্তা -কর্মচারীরা জেনেও,দেখেও না দেখার ভান করে অনৈতিক উপায়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে এ অপকর্ম চালিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে । সচেতন লোকজনের আশংকা, এ খামারের আড়ালে এ উপকূলীয় রাস্তা দিয়ে ইয়াবাসহ বড় ধরণের মাদকের চালানও পাচার হচ্ছে।সন্ধ্যা নামলেই এ খামার এলাকার আশপাশে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা চোখে পড়ারমত। তাদের ধারণা, মাদক কারবারিরা তাদের মাদকের চালান হাত বদলের ট্রানজিট হিসেবে এ খামার এলাকাটি ব্যবহার করছে। কারণ অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে ভয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়।এ সুযোগকে কাজে লাগায় মাদক কারবারি চক্র ।এমনকি এ খামারের নাকের ডগার আশু মাঝির ঘাট দিয়ে ইতিপূর্বে থাইল্যান্ড -মালয়েশিয়ায় সাগর পথে হাজারো মানব সন্তানের পাচার হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এ বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে কেবল এ খামারের কর্মচারী ও মালিক পক্ষের আনাগোনা চলে।এতেই অনুমেয় মানব পাচার-ইয়াবা চালান পাচারের মত রাষ্ট্রদ্রোহী ভয়ানক অপকর্ম গুলো তাদের গোচরেই ঘটছে। এদিকে উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে খামার পক্ষের জকরিয়া ও আবু বকরের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন,খামারের জায়গাটি তারা পাউবো থেকে লিজ নিয়েছেন এবং নিয়মিত পাউবো কতৃপক্ষকে ফি আদায় করছেন।যার নিয়মিত কাগজপত্র তাদের আছে দাবি করে, অন্য অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে। কক্সবাজার পাউবো’র প্রধান নির্বাহী প্রবীর কুমার গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন,পাউবো’র বেড়িবাঁধের কোন জায়গা লিজ দেয়া হয়নি।আগে দিলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান। উপকূলীয় এলাকার সচেতন লোকজন জানান,পাউবো’র এসু নারায়ণ বাবু দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর যাবত কক্সবাজারে একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে জেলার পুরো উপকূলীয় এলাকার পাউবোর জায়গার যত অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে, সব কিছু তার নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে এবং এসব দখলবাজদের কাছ থেকে বছরের পর বছর অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়ে পাউবোর জায়গা অবৈধ দখল ও বেড়িবাঁধ ধ্বংসে সুযোগ করে দিচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে এসব কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে নারায়ন বাবু’র মোবাইলে বারবার কল দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •