সিবিএন ডেস্ক:
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ কমেছে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দেশের ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ১১টি অংশ নিয়েছে। দলীয় মনোনয়নে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের ইউপি ভোটে অংশ নিয়েছিল ২৯টি রাজনৈতিক দল। যা ছিল এবারের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকৃত রাজনৈতিক দলের প্রার্থিতা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

অবশ্য প্রথমধাপের প্রার্থিতাই চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী ধাপে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে, রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বাড়লেও সেটা ২০১৬ সালকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না কারার ঘোষণা দিয়েছে।

বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তার ২০ দলীয় জোটভুক্ত নিবন্ধিত কোনও দল প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি।

আগামী ১১ মে প্রথম ধাপে দেশের ৩৭১টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে দেশের ১১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। তারা হলো আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি-জাপা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, জাকের পার্টি এবং নিবন্ধন পাওয়া নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কংগ্রেস। নতুন নিবন্ধন পাওয়া ববি হাজ্জাজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

দলীয় মনোনয়নে প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিকগুলোর দলের মধ্যে ২৯টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ কংগ্রেস বাদে এবার অংশ নেওয়া ১০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।

অন্য যেসব দল ২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তারা হলো- বিএনপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, এলডিপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, সাম্যবাদী দল, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাসদ, তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনএফ এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি)। এদের মধ্যে পিডিপির নিবন্ধন সম্প্রতি বাতিল হয়েছে।

অবশ্য সবগুলো দলই সব ধাপের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে ১৬টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। পরে চূড়ান্ত ভোটে তাদের মধ্যে একটি দল ছিল না।

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৭৫২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯ জনই স্বতন্ত্র। এদের বড় অংশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। বাকি ৬৫৩ জন আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত।

এদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়া ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে একজন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে রয়েছেন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ সব মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৯০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ সদস্য পদে (মেম্বার) ১৪ হাজার ৪৩৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪ হাজার ৩০৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ইসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যে ২৭টি ইউনিয়নে একক প্রার্থী রয়েছে সেগুলো বাদে বাকি ৩৪৪টিতে গড়ে ৫ জনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে গড়ে তিনজনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৫ জন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যাচাই-বাচাই, আপিল এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ৭৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর চেয়ে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ১৬টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন এক হাজার ৬৬৮ জন। ওই সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে দুই দশমিক ৫৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •