সংবাদদাতা:

উচ্ছেদ নয়, মাথা গোজার ঠাই নিযে বাঁচতে চাই। আমরা রোহিঙ্গা হতে চাই না, নিজ জন্মভূমিতেই থাকতে চাই। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে গৃহহীন হতে চাই না। আমরা বাস্তুহারা হতে চাই না, নিজ গৃহে মরতে চাই ।

প্রায় ৮’শ পরিবারের নারী-পুরুষের আর্ত চিৎকারে এভাবেই তাদের আবেগ আর ক্ষোবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন উচ্ছেদ আতংকে থাকা মানুষ গুলো । বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয়রা জানান, আমাদের বসতবাড়ির উত্তর পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ খালী জায়গা রয়েছে সেই খালী জায়গার উপর দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করলে এত গুলো বসতঘর উচ্ছেদ করতে হবে না । এবং আমাদের ৮’শ পরিবার গুলোও গৃহহীন থাকতে হবে না । আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নয়, আমরা উন্নয়ন চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা এবং শ্রদ্ধা রেখে দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা মহেশখালীবাসি হাজার হাজার একর জমি দান করেছি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাইলে আমরা জমি দিতে এখনো প্রস্তুত, কিন্তু আমাদের শেষ সম্বল মাথা গোজার ঠাঁই টুকু যাতে রক্ষা হয় সে দিকেই লক্ষ্য রেখে উন্নয়ন করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বসতঘর উচ্ছেদ করে উন্নয়ন প্রকল্প না করতে নিশেদ করলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে তারা বসতবাড়ি গুলো খালী জায়গা দেখিয়ে ৮’শ পরিবারকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে সড়ক নির্মাণ করার জন্য বাড়ীর উপর দিয়েই সার্ভেয়ার করছে। বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে সড়ক নির্মাণে আমরা কিছুতেই মেনে নেব না। আমরা উচ্ছেদ হব না, প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমাদের মাথা গোজার ঠাই টুকু রক্ষা করব । বর্তমানে যে ৮’শ পরিবারের উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য সার্ভেয়ার করা হচ্ছে, এই ৮’শ পরিবার ছাড়াও এখানে রয়েছে কবরস্থান, প্রায় ৩’শ বছর পুরানো হযরত ঈগল শাহ ফকিরের দরগা শরীফ, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা সহ ধর্মীয় ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারনে মহেশখালীর উন্নয়ন গুলো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এতে মহেশখালীতে বসবাসরত জনগন আর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে মুখামুখি দাঁড় করাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা ।
জাপানের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকার) অর্থায়নে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৩’শ ফুট প্রস্থ বিশাল সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে মহেশখালী উত্তর নলবিলা মৌজার উপর দিয়ে । এ সড়ক নির্মাণের জন্য মহেশখালীতে চলছে সার্ভেয়ারের কাজ । সড়কটি মহেশখালীর উত্তর প্রান্তে ৮’শ পরিবারের উপর দিয়ে করার জন্য যাচাই বাচাইয়ের কাজ চলছে । ডাটা এক্সপার্ট কোঃ লিঃ নামের একটি প্রতিষ্ঠান উক্ত সড়কটি সার্ভেয়ারের দায়িত্ব পায় । ডাটা এক্সপার্ট কোঃ লিঃ জনবসতির উপর দিয়ে সার্ভেয়ার করায় এতে উচ্ছেদ আতংকে রয়েছেন ঐ এলাকার প্রায় ৮’শ পরিবার । এর প্রতিবাদে ১৯ মার্চ (শুক্রবার) সকাল ৯ টার সময় উপজেলার উত্তর নলবিলা দরগাহ ঘোনায় মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কের উপর দাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এলাকাবাসীর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ।
তিনি বলেন , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মহেশখালীতে নির্মাণ করা হচ্ছে অনেক গুলো মেঘা প্রকল্প। যা সব গুলো বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে মহেশখালীর চিত্র। এসব উন্নয়ন গুলো নির্মাণ হচ্ছে একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সু-নজর রয়েছে বলে এত গুলো উন্নয়ন প্রকল্প করা হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে এই নয় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে বসতবাড়ি গুলো খালী জায়গা দেখিয়ে সড়ক নির্মাণের নামে বসতবাড়ি উচ্ছেদ কিছুতেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, যে বাড়ী গুলোর উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণে সার্ভেয়ার করা হচ্ছে তার ঠিক ২’শ গজ উত্তর দিকে নিয়ে গেলে এতো গুলো বসতবাড়ি উচ্ছেদ করতে হবে না। এখানে এত গুলো বসতঘর রয়েছে এটা জেনেও তারা কেন এই বসতবাড়ির উপর দিয়ে সার্ভেয়ার করা হচ্ছে।
সার্ভেয়ারের দায়িত্ব পাওয়া ডাটা এক্সপার্ট কোঃ লিঃ এর প্রতি উক্ত প্রকল্প বাতিল করে অসহায় পরিবারের বাপ দাদার বসতভিটা বহাল রাখার জন্য অনুরোধ জানান।
তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নে অনেক পরিত্যাক্ত জমি রয়েছে, তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থে অত্র প্রকল্পটি পতিত জমিতে স্থানান্তরিত করলে অসহায় পরিবার গুলো খুবই উপকৃত হবে । তাই দেশ ও জনগনের স্বার্থে, অত্র ডাটা এক্সপার্টস কোম্পানি লিঃ সড়ক সার্ভের প্রকল্পটি সরকারের পতিত জমিতে স্থানান্তরিত করার জন্য জোর দাবী জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানান। বাড়ী ভিটা রক্ষার দাবীতে স্থানীয় নারী-পুরুষের বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মাষ্টার ফরিদুল আলম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী খাঁন, মাষ্টার নজরুল ইসলাম, মাষ্টার মীর হোসেন, মাষ্টার জয়নাল আবেদীন , মাষ্টার মোক্তার আহমদ, সাবেক মহিলা (ইউপি) সদস্যা শাহিদা আক্তার, বাদশা মিয়া, মাষ্টার সেলিম উদ্দিন, সাবেক সেনা সদস্য সেলিম উল্লাহ আজাদসহ অত্র এলাকার নারী পুরুষ, ছাত্র, শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •