সিবিএন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসুন, আমরা জাতির পিতার ১০১তম জন্মদিন আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রতিজ্ঞা নিই, জাতির পিতা যে স্বপ্ন রেখে গেছেন, সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করব।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাকপ্রতিবন্ধীদের ইশারায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যে তৃতীয় দিনে ‘যতকাল রবে পদ্মা-যমুনা’ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বার্তা দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৭ মার্চ প্রথম দিনে ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’ মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যে ১০ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। করোনাভাইরাস মহামারীর সংক্রমণ পরিস্থিতিতে থমকে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন। জনসমাগম এড়িয়ে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গত এক বছর ধরে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল। মুজিববর্ষে জাতির পিতার ১০১তম জন্মদিবার্ষিকীকে উদযাপন রঙে রাঙিয়ে রাখার পাশাপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আরেক মাহেন্দ্রক্ষণে জাতি।’
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কান এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।
আজকের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ১ম পর্বে আলোচনা সভার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নবনীতা চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামটা মুছে ফেলা হয়েছিল। ভাষার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। ৭৫’র পরে একের পর এক মিলিটারি ডিটেকটর অথবা তাদের দোসররা যে ক্ষমতায় এসেছে, স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যারা হত্যা করেছে, তারা যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের একটাই ভয়-ভীতি ওই একটি নাম নিয়ে। কাজেই তারা ২১টা বছর সবি নিষিদ্ধ করে রেখেছিল।’
কিন্তু যে সংগঠন জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন; এই সংগঠন আওয়ামী লীগ কিন্তু সেই (বঙ্গবন্ধু) আদর্শ নিয়েই চলেছে এবং সংগ্রামের পথ বেয়ে আমরা কিন্তু বাংলাদেশে ২১বছর পর সরকার গঠন করে এদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।
‘যে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের কাছে বলতে গেলে হাত পেতে চলত। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে যেখানে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গিয়েছিলেন এবং অনেক স্বপ্ন ছিল তার বাংলাদেশকে নিয়ে। ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তিনি গড়বেন। কিন্তু সে স্বপ্নটা অধরা ছিল। ১৫ই আগস্ট তাকে হত্যা করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তাকে দেয়নি’ বলে উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
টানা তৃতীয় মেয়াদসহ মোট চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ মুজিব আদর্শের সৈনিকদের প্রতিও সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের সমর্থন নিয়ে আমরা সরকার গঠন করি। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমরা উন্নীত হতে পেরেছি। কাজেই এই বাংলাদেশে আজ জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সরকারে থেকে উদযাপন করার সুযোগটা পেয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম বলেই তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে উঠুক। বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা আলো জ্বালাব, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান; সব দিক থেকে আমাদের দেশের মানুষ যেন উন্নত সমৃদ্ধ জীবন পায়, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। যা তিনি সবসময় বলতেন। তার জীবনের স্বপ্ন এদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে, ক্ষুধা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা জাতির পিতার এই ১০১ জন্মদিন আর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী; আমরা সেই প্রতিজ্ঞাই নেই, জাতির পিতা যে স্বপ্ন রেখে গেছেন, সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো। বাংলাদেশ হবে, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে।’

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •