সংবাদদাতাঃ
করোনা পরিস্থিতিতে খুবই শোচনীয় অবস্থায় জীবন-যাপন করছে শিক্ষকরা। তার মাঝে মরার উপর খাড়ার ঘা। কক্সবাজার পিএমখালীর চৌধুরী পাড়া এলাকায় শিক্ষক নুরুল আলম এর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্রসহ মালামাল রাস্তায় ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ লোকজন। পাশাপাশি টেনেহিঁচড়ে পরিবারকে জোর করে রাস্তায় বের করে দিয়েছে। এতে ২মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটি।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে। নুরুল আলম কক্সবাজার সদর উপজেলা পিএমখালী ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার মৃত আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং পিএমখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। এ ঘটনা নিয়ে এলাকাজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুল আলম চৌধুরী অভিযোগ করেন, “আমার বর্তমান এই বসতভিটা ক্রয় সুত্রে পাওয়া। যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। তার মধ্যে আমার বড় ভাই শওকত উল্লাহ চৌধুরী পরিবারসহ দুবাই প্রবাসী। কিন্তু বড় ভাই আবুল কাশেম তার ছেলেরা তাদের জায়গা বলে আমাদের প্রতিনিয়ত ঘর থেকে বের করে দিয়ে বসতভিটাটি দখলে নেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ আমি সকালের দিকে ঘর থেকে বের হয়ে দোকানের দিকে গেলে নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে জয়ফুল ইসলামসহ একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ অতর্কিত অবস্থায় হামলা চালায় আমার বসতভাড়িতে। এতে বাড়ির আসবাবপত্রসহ মালামাল রাস্তায় ফেলে, টেটেহিঁচড়ে পরিবারকে জোর করে রাস্তায় বের করে দেয় তাঁরা। এতে আমি ২মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিশেহারা হয়ে পড়েছি”।

এ ঘটনার খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য আচারণ করে এবং পেশাগত উপকরণ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ঘটনাটি অস্বীকার করেন বলেন, এটি তাদের পৈতৃক জায়াগা বলে দাবী করে হাকাবাকা করে।

এ ঘটনায় স্থানীয় দলিল লেখক মোস্তাফিজুর রহমান, নাছিম উদ্দিন, প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোহেল সরওয়ারসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, “ এ বিষয়েয় একসময় সামাজিকভাবে বিচার হয়েছিলো। কিন্তু তা তাঁরা মানে না। তবে আবুল কাশেম এর পরিবার মাস্টার পরিবারের উপর সবসময় অন্যায় করে আসছে”।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ও তাঁর বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং মাস্টার নুরুল আলম যে বসতভিটায় থাকে এটি তাদের পৈতৃক জায়াগায় বলে দাবী করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •