এম.মনছুর আলম, চকরিয়াঃ
বৈদ্যুতিক শটসার্কিটের অগ্নিকান্ডে মতো একটি ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে নাড়া দিয়েছে। ঘটনাটি বড়ই হৃদয় বিদারক ও বেদনাদায়ক। আগুনে এক নিমিষেই তিনি শিশুর নিভে গেল জীবন প্রদীপ।
জাকের হোসেন পেশায় ইঞ্জিন মেস্ত্রী। কাজলী আক্তার গৃহিণী। পরিবারটি হতদরিদ্র। পরিশ্রম করেই দিনাতিপাত করতেন। স্বামী-স্ত্রী বৃদ্ধ মাসহ সাত জনের সংসার। তারা থাকতেন উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডস্থ সাবান ঘাটা নামক গ্রামের বনবিভাগের সংরক্ষিত বনের জমিতে মাটির ঘরে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস খাওয়া-দাওয়া শেষে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। প্রতি রাতে দাদীর কক্ষে থাকতেন জাকের হোসেন মেস্ত্রীর তিন শিশু সন্তান মো.জিহাদুল ইসলাম (১২), তার দুই ছোট বোন ফৌজিয়া জান্নাত মিম (১০) ও আফিয়া জান্নাত মিতু (৮)। ঘটনার দিন রাতে দাদী বেড়াতে যান তার মেয়ের বাড়িতে। দাদীবিহীন ওই কক্ষে প্রতি রাতের মতো ঘুমিয়ে পড়েন তিন শিশু।
বাবা জাকের হোসেন ও মা কাজলী আক্তার দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন অন্য কক্ষে। রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে আকস্মিক ভাবে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে নিমিষেই সম্পূর্ণ বাড়িটি লেলিহান শিখায় আগুনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এসময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণেরর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ভাগ্যেচক্রে প্রাণে বেঁচে যান জাকের তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সের শিশু সন্তান। আগুনের শিখায় পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে এক এক করে বের করা হয় জাকের হোসেন ও স্ত্রীর নাড়ি ছেড়া ধন তিন সন্তানের মরদেহ। এসময় তিন সন্তানহারা বাবা-মায়ের আত্বনাদে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে হৃদয় বিদারক দৃশ্য। মা কাজলী আত্বনাদ করে প্রলাপ করছিল হয়তো সব ফিরিয়ে পাবো কিন্তু আমার নাড়ি ছেড়া তিন সন্তান গুলো কি ফিরে পাবো বলে জ্ঞান হারিয়ে মুর্ছা যাচ্ছিল। ওই সময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আশপাশের লোকজন শত চেষ্টা করেও সান্তনা দিতে পারছিলনা সন্তান হারানো বাবা-মাকে।
এ নির্মম ট্রেজেডির সংবাদ পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ।
তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্তনা দেন। পরে ওই পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষথেকে নগদ বিশ হাজার টাকা, কম্বল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •