প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

অবশেষে প্রতারক চক্রের দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন  রামু উপজেলার ১৩ নং ঈদগড় সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দেলোয়ারা বেগম ও তার স্বামী পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আজগর আলী। এ মামলা সম্পর্কে  একখানা বিবৃতি সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন । তা হুবহু তোলে ধরা হল।

গত ১৬.১১.২০২০ ইং তারিখ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল -০৪ চট্টগ্রাম আদালতে কক্সবাজার জেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে সাবরিনা শিরিন আরফি চট্টগ্রাম শহরের বায়োজিদ বোস্তামী থানার শের আলী কলোনীর আলী আকবরের বাড়ীর ঠিকানা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ৪৬০/২০২০)।

আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সরওয়ার জাহান কে দায়িত্ব দিলে তিনি তদন্তপুর্বক শিক্ষিকা দেলোয়ারা বেগম ও তার স্বামী পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আজগর আলীকে মিথ্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে গত ১৪/০১/২০২১ ইং তারিখ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ডাঃ আজগর আলী জানান, আমার প্রথম পুত্র ঈদুল হাসান কনক বাংলাদেশের স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় চট্টগ্রাম ফার্মেসী (সম্মান) ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র।সে ঈদগড় আমির মুহাম্মদ বদি উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০১৩ ইং সেশনে বিজ্ঞান বিভাগে জি পি -৪.১৯ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।তৎপরবর্তী বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৬ ইং সনে জিপিএ ৪.৪২ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
মামলার বাদী সাবরিনা শিরিন আরফি সম্পর্কে আমার ছেলের খালাত বোন হয়। মাঝে মধ্যে ফোন করলে খালাকে দেখতে চট্টগ্রামস্হ বাসায় যেত আমার ছেলে। আমার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ও বাদীর মা দিলদার বেগমের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা জমি দখল বেদখল নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে পারিবারিক ভাবে বিরোধ চলে আসছিল।

বাদীর মা দিলদার বেগম প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে গত ১১/১২/২০১৯ ইং আমার ছেলেকে হঠাৎ অসুস্থ হয়েছে মর্মে ফোনে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করে। সরল বিশ্বাসে খালার ভাড়া বাসায় যাওয়ার সাথে সাথে কয়েক জন বখাটে যুবক ছেলেকে ধরে শারিরীক নির্যাতন করে এবং সিএনজি গাড়ীতে তুলে চট্টগ্রাম কোর্ড বিল্ডিং নিয়ে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। কিছুক্ষন পর আরো কয়েকজন লোকসহ এসে সবাই মিলে নন- জুডিশিয়াল স্টাম্প ও নীল রঙের ভলিয়মে জোরপুর্বক দস্তখত নিয়ে এই ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।চট্টগ্রাম থেকে লেখাপড়া করতে হচ্ছে তাই জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘটনাটি কাউকে বলেনি আমার ছেলে। পরে জানতে পারলাম আমার ছেলের খালার মেয়ে সাবরিনা শিরিন আরফির সাথে আমার ছেলের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্টাম্প ও নীল রঙেরর ভলিয়মে জোরপুর্বক আদায় করা দস্তখত নেওয়া কাগজপত্র দিয়ে ১৮ লক্ষ বাকী দেখিয়ে ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তারা ভূয়া কাবিন নামা সৃজন করেছে।
আমার ছেলে সাথে সাথে কাজীসহ তাদের কাছে উকিল নোটিশ প্রেরন ও উকিল নোটিশের উত্তর না পেয়ে বায়েজিত বোস্তামী থানায় একখানা অভিযোগ দায়ের করে। এবং গত ২৮/০৭/২০২০ ইং তারিখ কাজী মৌলানা জামাল উদ্দীন কে ১ নম্বর বিবাদী করে খালাসহ সকলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করে (মামলা নং-অপর-৩২/২০২০। আদালত আসামীদের প্রতি সমন জারি করে।

উকিল নোটিশ থানার নোটিশ ও আদালতের নোটিশ পেয়ে তারা সকলে যোগসাজসে গত ২৬ / ০৮ /২০২০ ইং তারিখ সাবরিনা শিরিন আরফিকে আমার নিজ বাড়ীতে পাঠিয়ে স্ত্রী অধিকার আদায়ের নামে অনশন নাটক মঞ্চায়ন করে।এগুলি করে সু্বিধা করতে না পেরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে তারা।
আমার ছেলে যদি সাবরিো শিরিন আরফিকে ভালবেসে স্বেচ্ছায় আপোষে বিয়ে করার জন্য কাবিন নামা সম্পাদন করত তাহলে কখনও ২০ লক্ষ টাকা দেন মোহর তাও ১৮ লক্ষ টাকা বাকীতে কাবিন নামায় দস্তখত করত না। আমরা কোন শিল্পপতির সন্তান নই যে ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিবাহ করবে। সাবরিন শিরিন আরফির এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৫/০১/২০০৩ অথচ কাবিন নামায় তার জন্ম তারিখ লিখা হয়েছে ২৫/১১/২০০০ইং। যে তারিখ কাবিন নামা সম্পাদন করা হয় সেই দিন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৮ মাস।অর্থাৎ কনে নাবালক হিসাবে কোন কাজী কাবিন নামা সম্পাদন করতে পারে না।
ডাঃ আজগর আলী জানান, আমরা আদালতে আশ্রয় নিয়েছি। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে তা আমরা মাথা পেত নেব।তিনি অভিযোগ করে বলেন ঈদগড় এলাকার কিছু কুচক্রী মহল চেস্টা করছে মেয়েকে দিয়ে অনশন নাটক করে আমার উপর চাপ সৃষ্টি পুর্বক আপোষ করতে। তারা জানে কাবিন নামা সৃজন বৈধ হয়নি। আদালতে তারা পরাজিত হবে। তাই তারা আদালতে না গিয়ে মেয়ে কে আমার বাড়ীতে পাঠিয়ে আরো একটি অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টির চেস্টা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে।আলহামদুলিল্লাহ আমরা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •