রামু প্রতিনিধি :
রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্ব নোনাছড়ি এলাকায় জামে মসজিদ ও কবরস্থানে জমি দখল করে পোল্ট্রি খামার নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন-লিখিত অভিযোগ দেয়ার মাস পার হলেও এখনো কোন আইনী ব্যবস্থা না নেয়ায় কবরস্থানের বিপুল পাহাড়ি জমি মাটি কেটে নির্বিঘ্নে খামার ঘর নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে ওই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুচ নামের এক ব্যক্তি। জমি দখলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইউনুচ ওই এলাকার মৃত ইকবাল আহমদের ছেলে।
জানা গেছে, পূর্ব নোনাছড়ি বায়তুল ফত্তাহ জামে মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির আওতাধিন কবরস্থানের জন্য এলাকার একাধিক ব্যক্তি তাদের স্বত্ত্বঃদখলীয় জমি বিভিন্ন সময়ে দান করেন। এ দানের জমিতে কবরস্থান প্রসস্থ করার কাজও প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। কিন্তু কবরস্থানের কাজ শুরুর আগেই মোহাম্মদ ইউনুচ ও তার সহযোগিরা একমাস পূর্বে এখানে কবরস্থানের পাহাড় কেটে খামার নির্মাণ কাজ শুরু করে। শুরুর দিকে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী এ ধরণের ঘৃন্য কাজ না করার জন্য বারণ করলেও মোহাম্মদ ইউনুচ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম এসব কথার তোয়াক্কা না করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এতে বাধ্য হয়ে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তুরের জনতা গত ২ ফেব্রুয়ারি রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার কাছে এ ব্যাপারে আইনী প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির ঈমাম শরীফ, নাজির হোছাইন, শাহ আলম, সিদ্দিকুন নবী জানিয়েছেন-পাহাড় কেটে কবরস্থান দখলের কারণে কবরস্থানের অবশিষ্ট জমিও বর্ষা মৌসুমে ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পাহাড় নিধনের ফলে এখানে যেমন পরিবেশের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে তেমনি এখানে পোল্ট্রি খামার স্থাপনের ফলে এখানে দূর্গন্ধে পরিবেশ বিপর্যয় ও কবরস্থানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হবে।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স ও ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান জানিয়েছেন-মসজিদ ও কবরস্থানের জমি জবর-দখল করে এভাবে পোল্ট্রি খামার স্থাপনের চেষ্টা দূঃখজনক। এ ব্যাপারে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জমি দখলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইউনুচ কবরস্থানের জমি দখলের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সাথে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •