এ.এম হোবাইব সজীব, মহেশখালীঃ
মহেশখালীতে গৃহহীনদের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে প্রায় ৫০০ হতদরিদ্র পরিবার থেকে মোট ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিলেও ভয়ে মুখ খোলছেনা সাধারণ মানুষ।

তবে, রুবেল (৩৫) নামে এক প্রতারক আটকের পর একেএকে সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। এরপর থেকে বাকি অভিযুক্তদেরও হন্য হয়ে খোঁজছে পুলিশ।

জানাগেছে, প্রতারক চক্রের এই গোপন প্রক্রিয়াটি পুরো ২ মাস গোপন থাকলেও গণমাধ্যমের সূত্র ধরে অবশেষে গেলো ৫ই মার্চ বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোহাম্মদ রুবেল আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছেন। রুবেল উপজেলার কালারমারছড়া আঁধারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চক্রটির মূল টার্গেট ছিলো সমাজের নিম্ন মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর প্রতি, যাদের কাছে থেকে নেওয়া হতো বাড়িভেদে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার।

কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য প্রতারক চক্রের মাস্টারমাইন্ডার নুরুল ইসলামের মদদে মুলহোতা রুবেল। অপর সহযোগি ইসহাক মিলে উপজেলার কালারমারছড়া ও হোয়ানক ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ অসহায় পরিবারের কাছ থেকে মোট ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রথমে গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোর প্রতি অগাধ বিশ্বাস জন্মাতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘর দোওয়ার নাম করে নির্দিষ্ট মোটা অংকের টাকা দাবি করে তারা। পরে প্রতারকদের প্রতি আস্থার দৃঢ়তা বাড়াতে তাদের কারো কারো বাড়িতে ইট, সিমেন্ট, বালি ও টিন পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

প্রতারক চক্রের ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান অবগত হলে ব্যবস্থা নেন। সাথে সাথে মুল হোতা রুবলেকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হয়। আটকের দিন রুবেল তার ২ সহযোগী ইউনিয়নের মিজ্জিরপাড়া এলাকার ইসহাক ও মাস্টারমাইন্ডার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আবছারের কথা স্বীকার করেছেন।

তবে, তাদের কেউ এখনো আটক হয় নি।

অপরদিকে নিরপরাধে নয় কালোর টাকার লবিয়িংয়েই পার পেয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলছেন স্থানীয় একাধিক সূত্রে । এ ঘটনায় মুলহোতা রুবেল আটকের পর থেকে ইউপি সদস্য মাস্টারমাইন্ডার নুরুল আবছার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ বন্ধে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে এক পর্যায়ে কালো টাকা নিয়ে কাজ করেছে বলে জানাগেছে৷ এ বিষয়ে অভিযুক্ত কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।

মহেশখালী থানার এস আই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, রুবেল গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বীকার উক্তি মোতাবেক বাকি দুই অভিযোক্ত সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম ও ইসহাককে গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। যে কোন মুর্হুতে তারা গ্রেফতার হতে পারে।

মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, এটি মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে ভাল জানবেন বলে প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •