সিবিএন ডেস্ক:
আফগানিস্তানে হামলা, বোমা বিস্ফোরণে নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্যসহ ১৪ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পৃথক তিনটি হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় গণমাধ্যম তোলো নিউজের খবরে বলা হয়, শুক্রবার রাতে উত্তর কুন্দুজ রাজ্যের খান আবাদ জেলায় তালেবানের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়। হামলার পর তালেবানরা নিরাপত্তা বাহিনীর আরও পাঁচ সদস্যকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, তালেবানের আক্রমণের পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে তালেবানের পাঁচ সদস্য নিহত হয়। যদিও তালেবান কিংবা নিরাপত্তা বাহিনী হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এছাড়া, শুক্রবার রাতে বালাখ প্রদেশের শোলগরা জেলায় তালেবানের হামলায় আফগান সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হয় এবং দুইজনের বেশি আহত হয়। বালাখের প্রাদেশিক কাউন্সিল প্রধান মোহাম্মদ আফজাল হাদীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শোলগরা জেলার বাঘ-ই- পাহলোয়ান গ্রামে তালেবানের হামলা ঘটে।

তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর আটজন এবং তালেবানের ছয়জন নিহত হয়েছে। সেনা চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর সেনাবাহিনীর দুইটি হামভি যান নিয়ে যায়।

যদিও সেনাবাহিনীর ২০৯ কর্পস সংঘর্ষের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সেনা দলের মুখপাত্র সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তালেবান হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তারা সেনাবাহিনীর ১০ সদস্যকে হত্যা করেছে এবং দুইজনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে, শনিবার সকালে আফগানিস্তানের দক্ষিণ উরুজগান প্রদেশের সড়কে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে একজন শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। উরুজগান প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ ওমর শিরজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শরখবাইত এলাকায় একটি যানবাহনে রাস্তায় পেতে রাখা বোমা আঘাত করলে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়। হামলায় নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয় বলেও জানান তিনি। তবে এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার ১০টি প্রদেশে তালেবানের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন নিহত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে সাংবাদিক, আইনজীবী, অ্যাকটিভিস্ট, মানবাধিকার কর্মীদের ওপর টার্গেট করে হামলা করছে তালেবান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •