cbn

(নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত, নিকোলাস ক্রিস্টোফার বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা আর্টিকেল এর অনুবাদ না করে পারলাম না, সিবিএন পাঠকদের জন্য।)

নিকোলাস ক্রিস্টফ:

এই জাতি 50 বছরে পা দিচ্ছে এবং সবাইকে শিখিয়ে দিয়েছে কিভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হয়। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কলঙ্কময় দিক হচ্ছে, এটি শিশুশ্রমকে মেনে নেই, অবশেষে সংসদ কতৃক ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিল পাশ এটিকে কলংকমুক্ত করবে কিছুটা।

এই প্যাকেজের ঐতিহাসিক দিকে , এটি শিশুদের দারিদ্র্যতা অনেকটা কমিয়ে আনবে। যদি সত্যিই এর কার্যক্রম নিয়মিত চালু থাকলে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এটি শিশুদের দারিদ্র্যতা অর্ধেকে নিয়ে আসতে পারে।

আর এতে বাইডেন শিশুদের জন্যে এমন কিছু করতে যাচ্ছেন, যেটি ফ্রানক্লিন রুজভেল্ট সিনিয়র নাগরিকদের জন্যে করেছিলেন।

বাংলাদেশ ৫০ বছর আগে এই মাসেই দারিদ্র্যতা, জ্যানুসাইডের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছিল। হেনরি কিসিঞ্জার সেই সময়ে বাংলাদেশকে ‘ বাস্কেট কেইস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, আর ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ভয়ানক ছবি, এটি একটি আশাহীন দেশ হিসেবে পরিনত হয়েছিল।

১৯৯১ সালে আমি ঘূর্নিঝড় কভার করেছিলাম, যেখানে প্রায় ১০০০০০ মানুষ মারা যায়, আমার লিখায়, এই জাতিকে দুর্ভাগা হিসবে উল্লেখ করেছিলাম।

বাংলাদেশের শুধু ক্লাইমেট নয় আর ও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু আমার সব বাজে ধারণাকে পালটে দিয়ে বাংলাদেশ গত ৩ দশকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।

অসাধারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, গত ৪ বছরে, এই মহামারীর আগে এই হার গড়ে বছরে ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে, এটি বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী যা চীনের চেয়ে ও বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০ টি অংগরাজ্যের চেয়েও ভাল। বাংলাদেশ হয়তবা একসময় পিছিয়ে ছিল, আশাহত ছিল, কিন্ত এই দেশ বর্তমানে পৃথিবীকে উন্নয়নের কৌশল শেখাতে পারবে।

বাংলাদেশের এই সাফল্যের রহস্য কি, শিক্ষা আর নারী।

১৯৮০ সালের কথা, দেশের এক তৃতীয়াংশ জনগণে শিক্ষার ছোয়া নিতে পেরেছিল, আর নারীরা শিক্ষায়, অর্থনীতিতে কোন ভুমিকা রাখতে পারেননি।

এরপর দেশ আর বিভিন্ন পৌর সংস্থা শিক্ষাকে অনেকাংশে এগিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ৯৮% শিশু প্রাথমিক শিক্ষা নিতে পারছে।

এটি একটি আশ্চর্যের ব্যাপার যে, যেখানে এখনো লিংগের বৈষম্য আছে, সেখানে আজ উচ্চ মাধ্যমিকে ছেলেদের চেয়েও মেয়েদের হার বেশি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী নাটকীয় ব্যাপারটা তখনি ঘটেছে, যখন দেশে দরিদ্র নারীদের সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন হয়।

নোবেলজয়ী মোহাম্মদ ইউনুস আমাকে একসময় বলেছিলেন যে, গ্রামীন ব্যাংকের আওতায় প্রায় ১ লক্ষ নারী ‘ মোবাইল লেডি’ তে পরিনত হয় আর সমাজ পরিবর্তন করে ফেলে শুধুমাত্র ৪ বছরে৷

যেহেতু বাংলাদেশ শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে আর এই নারীরাই তাদের স্তম্ভ হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

দেশের কাপড় শিল্প অনেক নারীকে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে, আজ আপনি যে জামাটি পরছেন তা বাংলাদেশ থেকে আমদানি হয়তবা, এই শিল্প বাংলাদেশ কে চীনের পরে বিশ্বে সেরা কাপড় রপ্তানীকারক দেশে পরিনত করেছে।

এটিও সত্য যে, এই কারখানা নারীদের পশ্চিমাদের আদলে ভাতা দেয়না আর প্রায় সময় তারা যৌণ নিপীড়নের শিকার হন। আগুনের ঝুকিপূর্ণতা আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন তারা সবসময়, ২০১৩ সালের একটি ভবনের ধসে প্রায় ১১০০ লোকের প্রানহানী ঘটে।

অনেক নারীদের বলতে শুনা যায়, এ কাজ ১৪ বছরে বিয়ে করা, মাঠে আর ইউনিয়নে কাজ করার চেয়েও অনেক ভাল।

এদিকে এই সমস্ত শিক্ষিত নারীরা আরও অনেক দিয়ে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন, তারা ব্রাক আর গ্রামীণ ব্যাংকের মত উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে উন্নত পায়ুনিস্কাসন, শিশুদের টিকা দেওয়া, গ্রামবাসীদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া আর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করছেন।

বাংলাদেশে হয়তোবা অনেক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের অভাব ছিল, কিন্ত মানব উন্নয়নে তারা যা পুঁজি খাটিয়েছেন তা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষনীয়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশ দারিদ্র্যতা কমিয়ে আনার এক সফল কাহিনি।

গত ১৫ বছরে প্রায় ২.৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচ থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। অপুষ্টিতে ভুগা শিশুদের হার কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে , ১৯৯১ সালের পর যা ভারতের চেয়েও কম।

পাঠকবৃন্দ মনে হয় বিস্মিত হয়েছেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা উন্নয়নের অন্তরায়, বর্তমানে গড়ে একজন নারী ২ জনের চেয়ে বেশি শিশু জন্ম দিচ্ছেনা, কমিয়ে এনেছেন অতীতের ৭ জন থেকে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ইনভেস্ট করেছে দারিদ্র্যতার পেছনে, এতে এই জাতি উঠে এসেছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। আমরা বিলিনিয়ারদের পেছনে লগ্নি না করে আমাদের শিশুদের পেছনে করি, আমাদের এখনো প্রতি ৭ জন শিশুর মধ্যে একজন হাইস্কুলে যেতে পারছেনা। তাই শিশুদের প্রতি বাইডেনের এই দৃষ্টি খুবই আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, শিশুদের প্রতি সহনশীলতা শুধু আবেগের ব্যাপার নয় , এটি একটি জাতিকে তুলে আনার প্রয়াস ও বটে।

অনুবাদক : মোহাম্মদ ম্যাক্স

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •