জুলফিকার আলী ভুট্টো, চকরিয়াঃ

চকরিয়ার মানিকপুরের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহার মাতামুহুরি নদীর ভাঙ্গনের ধ্বংসের পথে।
শুক্রবার (১২ই মার্চ) মানিকপুরের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক মংধু রাখাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটিতে আছেন, কমিটির সভাপতি আথোয়াইরি রাখাইন, সাধারণ সম্পাদক মংধু রাখাইন, কোষাধ্যক্ষ উখ্যাই রাখাইন, সিনিয়র সদস্য অংচাথোয়াই রাখাইন, সিনিয়র সদস্য থোয়াইহ্লা মং রাখাইন।

চকরিয়া সুরাজপুর- মানিকপুরের ৫ নং ওয়ার্ড রাখাইন আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় একমাত্র কেন্দ্রীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহার বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর স্রোত তীব্র কড়াল গ্রাসের ভাঙ্গনের কবল হতে রক্ষার স্বার্থে বিহারটি পাশ্ববর্তী নদীর তীরে বাঁধ/ব্লক দিয়ে কাজ করলে বিহারটি রক্ষা পাবে। ঐতিহাসিক এই বিহারটি কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। বিহারটি প্রাচীনকাল হইতে ১৪৪২ ইংরেজী প্রতিষ্ঠা হয়ে বিগত ১৯৮৮ ইং পুনঃ নির্মাণ করা হয়। তঃকালীন জনসংখ্যা তেমন না থাকলেও বর্তমানে ঐ বিহারের পাশে ৬০০ পরিবার ও ৩টি মহল্লা নিয়ে বিহারটি স্থাপিত। একই সঙ্গে রাখাইন আদিবাসীর স্মৃতি হিসেবে গড়ে তোলা ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহার ধ্বংসের পথে । এই বিহার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মাননীয় সংসদ আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ (অর্নাস) এমএ, ও বদলি হয়ে যাওয়া চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী এবং সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নে তিন তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বরাবর আবেদনও করেন।

মানিকপুরের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহারের সাধারণ সম্পাদক মংধু রাখাইনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৪৪২ ইংরেজী তৎকালীন ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহার মানিকপুর নামে রাখাইন পাড়া এলাকায় মাতামুহুরী নদীর পাড়ে এই বিহারটি নির্মাণ করেন। এছাড়া এই বিহারের চারপাশে রয়েছে আদিবাসী রাখাইন পরিবার বসবাস করে আসছে।

বিহারের ১২ ফিট দূরত্বের মাতামুহুরী নদী অবস্থিত। বর্ষাকালে নদীর পানিতে বৌদ্ধ বিহারটি নদীর পানির সাথে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বসবাসরত রাখাইনরা বলেন, সংস্কার না করায় বৃষ্টি হলে বিহারে দেয়াল বেয়ে ভেতরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। কয়েক বছর পর হয়তো বিহারটি পানির সাথে তলিয়ে যেতে পারে।
চকরিয়া মানিকপুর ধর্ম বিজয় বৌদ্ধ বিহারে সাধারণ সম্পাদক মংধু রাখাইন বলেন, কর্তৃপক্ষরা সবাই মিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কক্সবাজার -১ আসনের সাংসদ জাফর আলম এমপি ও সুরাজুর মানিকপুরের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিমসহ বিহারটি রক্ষার গণস্বাক্ষর দেন। একালাবাসীর দাবি ঐতিহ্যবাহী এই বিহারটি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় রাখাইন আদিবাসীরা বলেন, পুরনোকীর্তি ও স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিহার রক্ষা জরুরি। বিহারটি বন্যার পানিতে ভাসে।
মংধু রাখাইন আরও বলেন, বিভিন্ন ইন্জিনিয়াররা স্থানে এসে বিহার পরিদর্শন করে আশ্বাস দিয়ে চলে যায় এবং সংবাদকর্মীরা প্রতিবেদন করার পরও সু-ফল আসে নাই। কিংবা পার্বত্য ও কক্সবাজার প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি এগিয়ে আসে তাহলে বিহারটি রক্ষা পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •