চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে কে হচ্ছেন ভাগ্যবান নৌকার প্রার্থী

– এম.আর মাহামুদ

দেশে ১১০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। তবে সব সাপের কামড়ে মানুষ বা অন্য কোন প্রাণী মারা যায়না। হাতে গোনা ৭/৮ প্রজাতির বিষাক্ত সাপের কামড়ে সু-চিকিৎসা না পেলে মানুষ মারা যায়। আবার মারাত্মক বিষাক্ত সাপে কামড়ালেও ঘোড়া মারা যায়না। তবে দু’একদিন একটু অসুস্থ থাকে। তার কারণ ঘোড়ার রক্ত থেকেই সাপের প্রতিষেধক তৈরী করা হয়। সব সাপে কামড়ালেও মানুষ মরেনা। কথাটি শতভাগ সত্য হলেও মানুষ সব প্রজাতির সাপকে প্রচন্ড ভয় পায়। আবার অনেক মানুষ আছে রাতে হাটার পথে ছেড়া রঁশি দেখলেও সাপ মনে করে ভয় পায়। মুলত এসব কথা অবতারনা শানেনযুল আগামী ১১ এপ্রিলের চকরিয়া পৌর নির্বাচনকে নিয়ে।

আগে নির্বাচন ছিল এক ধরণের রাষ্ট্রীয় উৎসব। এখন কিন্তু সেই উৎসব নেই বললেই চলে। তবে শংকা থেকেই যায়। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ডে নির্বাচন অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। মানুষ তেমন ভোট কেন্দ্র মুখী হতে চায়না। তারপরেও স্বল্প সংখ্যক মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা সাহেব বার বার বলে যান, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে ওই নির্বাচন কমিশনের মাহাবুব তালুকদার বরাবরই মতই নির্বাচনের বাস্তব চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরতে কৃপনতাবোধ করেনা। এক্ষেত্রে গ্রাম্য একটি প্রবাদ না বললেই হয়না “যার দধি সে কখনো টক্ বলেনা”। আমজনতা কি আর বলবে, তাদেরতো বলার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক দেশে নির্বাচন হচ্ছে। সে পুরনো একটি গানের একটি কলি বলতে হচ্ছে- “যেমনি নাচায় তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ”। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচিত পৌর মেয়র সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদের সাহেবের ছোট ভাই মির্জা কাদেরকে অনেক বাস্তব সত্য কথা অকপটে প্রকাশ করেছে। শেষ পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হলেও অশান্তির বিষ বাষ্প এখনো বন্ধ হচ্ছেনা।

দেশে স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনগুলো হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। গত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে সম্পন্ন হয়েছে। সে সময় নিবন্ধিত সব দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমানে বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি বিএনপির একান্তই দলীয়। দলীয় প্রতীকে তারা নির্বাচনে অংশ না নিলেও নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্ন হবে। তবে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা দলের প্রতীক বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিএনপির যুক্তি হচ্ছে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে তাদের অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী অনেক কেন্দ্রে একটি ভোটও পায়নি। বেশিরভাগ প্রার্থী জামানত হারিয়েছে, সেক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত যথার্থ “ন্যাড়া বেল তলায় বার বার যায়না”। সব কথার শেষ কথা চকরিয়া পৌর নির্বাচনে বেশুমার কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যে বিএনপির সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারও মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে পুরো পৌর এলাকায় ঝড় তুলেছেন বর্তমান পৌরসভার কাউন্সিলর জিয়াবুল হক। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে বেশ ক’জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এখনো কার ভাগ্যে দলীয় প্রতীক জুড়ছে তা জানা যাচ্ছেনা।

বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী বিগত ৫ বছর পৌর সভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি পৌরসভার সৃষ্টির পর থেকে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন দেখিয়েছেন। তবে তার প্রতিপক্ষরাও অতীতের কর্মকান্ড নিয়ে নানান মন্তব্য করে যাচ্ছেন।

সব শেষে একটি কথাই প্রাধান্য পাচ্ছে- কে পাচ্ছেন দলীয় প্রতীক। শাসক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীক যেন সোনার হরিণ, কারো কারো মতে হযরত মুসা (আঃ) লাঠির মতো। যে লাঠি সমুদ্রের পানিতে আঘাত করলে রাস্তায় পরিণত হয়। দেখা যাক শেষপর্যন্ত নির্বাচন কেমন হয়। ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে ভুল করবে বলে মনে হয়না। এবারের ভোট হবে নতুন পদ্ধতি ‘ইভিএম’ এ। ইভিএম এর সাথে এ পৌরসভার ভোটারদের এখানো পরিচয় ঘটেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উদ্ভাবিত ইভিএম পদ্ধতিতে এবারই হবে চকরিয়া পৌরসভার ভোট।

বাম দলের একটি স্লোগান বার বার মনে পড়ে ‘নৌকা, লাঙ্গল, ধানের শীষ, সব সাপের একই বিষ’ চকরিয়া বাসী চায় একজন দক্ষ, সৎ ও বিনয়ী ব্যক্তি মেয়র নির্বাচিত হোক। সে যে দলেরই হোক, যার কাছে পৌরএলাকা থাকলে নিরাপদ ও উন্নয়ন বান্ধব হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •