শেফাইল উদ্দিন :

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও নদী দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে । নদীর দু’পাশে চলছে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে ময়লা আবর্জনায় দুষিত হয়ে যাচ্ছে নদীর পানি ।
জানাযায়, ঐতিহ্যবাহী প্রবাহমান ঈদগাও নদী রামু উপজেলার ঈদগড থেকে ঈদগাও-ইসলামাবাদ-জালালাবাদ হয়ে পোকখালী অতিক্রম করে মহেশখালী চ্যানেলে সংযুক্ত হয়েছে । এ ঈদগাও নদীর উপর সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি, ক্ষেতখামার,লবনচাষ,মৎসসহ এলাকার লোকজনের জীবন জিবীকা নির্ভর করে । এ নদী কেন্দ্রীক গড়ে উঠে ঈদগড় ও ঈদগাঁও বাজার । সড়ক ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পূর্বে ঈদগড়-বাইশারীসহ পার্বত্য এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য ও যাতায়াত এ নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল । সম্প্রতি এ ঈদগাঁও নদী দখল ও দূষণের কবলে।

ঈদগাও বাসষ্টেশন,বাসঘাটা,ভোমরিয়াঘোনা,পালপাড়া, বাজার এলাকা, হিন্দু পাড়া, চরপাড়া, রাবার ড্যাম এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে স্থাপনা নির্মাণ করে নদী দখলের প্রতিযোগিতা ।

অন্যদিকে ঈদগাও বাসষ্টেশন, বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান , হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও হাসপাতালের ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর পানি দুষিত করছে।ক্রমান্নয়ে এই ঈদগাও নদী দখল ও দূষণের কারণে বিলুপ্তির পথে ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদর উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক রেজাউল করিমের সাথে কথা হলে দখল ও দূষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঈদগাও নদীর সাথে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা উৎপ্রোতভাবে জড়িত । এক সময় এ নদী মৎস্যভান্ডারে ভরপুর ছিল , কিন্তু বর্তমানে নদীর এ দুরাবস্থায় এলাকাবাসী চরম হতাশাগ্রস্থ ।

ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী হাসান তারেক জানান, বিশেষ করে ঈদগাও পালপাড়া থেকে রাবার ড্যাম এলাকায় আশংকাজনক হারে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে নদী রক্ষা করা যাবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের মঈনুল হকের সাথে কথা হলে জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এলাকার লোকজন জানান,এ বিষয়ে আমরা অনেক সময় অনেক বার পরিবেশ অধিদপ্তরে জানিয়েছি কাজের কাজ কিছুই হয়নি চলছে পুরোদমে নদী দখল । সচেতন মহল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদী রক্ষায়। অন্যথায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •