তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামে আটকে পড়া বা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা লক্ষাধিক প্রবাসী করোনার টিকা নিতে পারছেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকার জন্য তারা রেজিস্ট্রেশনও করতে পারছেন না। আবার নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদনও করতে পারছেন না।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বহু প্রবাসী দেশে এসে আটকা পড়েছেন। অনেকে টিকা নিতে দেশে আসছেন। এদের মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে তারা টিকা নিতে পারছেন। যাদের পরিচয়পত্র নেই তারা রেজিস্ট্রেশন করাতে পারছেন না। পাসপোর্ট দেখে প্রবাসীদের টিকা রেজিস্ট্রেশন করার কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানান, প্রতিদিন বহু প্রবাসী জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে আসছেন। কিন্তু এখন নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ মাসের মাঝামাঝি নিবন্ধন শুরু হতে পারে। তখন প্রবাসীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০ লাখের বেশি মানুষ বিশে^র বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন কর্মসূত্রে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন সৌদি আরবে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন প্রচুর বাংলাদেশি।

এই সংখ্যা প্রায় সোয়া ১ কোটি হবে। যারা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় এদের অনেকের নাম নেই দেশের ভোটার তালিকায়। তালিকায় নাম না ওঠায় তারা জাতীয় পরিচয়পত্রও পাননি। এখন সারাবিশে পাসপোর্টের চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্রে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল সিম উত্তোলনসহ সব ধরনের সার্ভিস পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। সরকার বিভিন্ন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা বলে এলেও তা এখনও শুরু হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় দেশে-বিদেশে নানা সমস্যায় পড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশে জায়গা জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও তারা এই সমস্যায় পড়ছেন। এখন টিকা দেওয়ার রেজিস্ট্রেশনও তারা করতে পারছেন না। পাসপোর্ট দিয়ে যেন টিকার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন সে রকম সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রবাসীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •