আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও:
কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় চৌফলদন্ডী-পোকখালী নদীর কয়েকটি স্থানে একযোগে ডজনাধিক অবৈধ মাছ ধরার বোট নির্মাণের মহোৎসব চলছে। উপকূলীয় বনবিটের নাকের ডগায় এসব বোট নির্মাণে ব্যাবহারে জন্য সংরক্ষিত বন থেকে লুট করা কোটি টাকা মুল্যের অবৈধ কাঠ সংঘবদ্ধ চক্র মওজুদ করলেও রহস্যময় ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদী এলাকার পোকখালী আশু মাঝির ঘাটে ১ টি, চৌফলদন্ডী ঘাট সংলগ্ন উপকূলীয় বনবিট অফিসের সোজা পশ্চিম পাশে ৩ টি, ঘাট বাজারের সোজা পূর্ব দক্ষিণ পাশে ৩ টিকে ও এর পূর্বে আরো ২ টিসহ ডজনাধিক বিশালাকারের মাছ ধরার বোট তৈরীর কাজ চলছে মহাধুমধামে। বিগত একমাস যাবত এসব বোট নির্মাণে সংরক্ষিত বন থেকে লুট করা কয়েক কোটি টাকার অবৈধ কাঠ ব্যবহার করে আসছে নির্মাণকারীরা। সংঘবদ্ধ বনদস্যুচক্র কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীন রেঞ্জ ও বনবিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব কাঠ বিভিন্ন পথ দিয়ে বোট নির্মাণকারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

বিশেষ করে এ মূল্যবান কাঠ গুলো চৌফলদন্ডী ও পোকখালী নদী এলাকায় পৌছাতে অবশ্যই কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীন মেহেরঘোনা রেঞ্জ, ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ, ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন বন বিট গুলোর সম্মুখ দিয়েই পাচার করতে হয়। আবার যেসব স্থানে এ বোট নির্মাণ কাজ চলছে ওই স্থানের নাকের ডগায় পোকখালী উপকূলীয় বনবিটের অবস্থান। এরপরও কিভাবে বনদস্যুচক্র ও বোট নির্মাণকারীরা প্রতিনিয়ত সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে এসব মুল্যবান কাঠের অবৈধ মওজুদ করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে বনবিভাগের ভুমিকা চরম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটা বোট নির্মাণস্থালের পাশে ঝুপড়ি ঘরের মধ্যে বোটের জন্য কোটি টাকা মুল্যের মাদার ট্রি তথা গর্জন গাছের চেরাইকৃত কাঠের মওজুদ করা হয়েছে। একদিকে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত কাঠ গুলো অবৈধ, অপরদিকে আদৌ এসব বোট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা তাও বোধগম্য নয়।

সম্প্রতি আশু মাঝির ঘাটে বোট নির্মাণকারী নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, বোট নির্মাণের জন্য স্থানীয় উপকূলীয় বনবিট কর্মকর্তা দয়া প্রসাদ ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে অনুমতি নিয়েছেন বলে জানান।

এরূপ অন্য বোট নির্মাণকারীরাও জানান,তারা বোট নির্মাণ করার সময় স্থানীয় উপকূলীয় বন বিট, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, বিট কর্মকর্তাদের কাঠ আনার সময় এবং বোট নির্মাণ বাবদ মোটা অংকের টাকা দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় উপকূলীয় বন বিট কর্মকর্তা দয়া প্রসাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, এসব বোট নির্মাণের বিষয়ে তিনি অবগত নন। টাকা নেয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

তবে দু’টি বোট নির্মাণের অনুমতির কাগজপত্র নির্মাণকারীরা তাকে দেখিয়েছেন বলে দাবি করলেও আবার এরকম অনুমতি দেয়ার নিয়ম নেই বলেও জানান দয়া প্রসাদ।

পরে আবার স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন দিয়ে এ উপকূলীয় বিট কর্মকর্তা সংবাদ না ছাপানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন। অথচ মাছ ধরার বোটগুলোর নির্মাণস্থল বন বিট অফিস থেকে হেটে গেলে কিছু পাঁচ মিনিট, কিছু পনের মিনিট ও কিছু বিশ মিনিট দূরত্বে। একমাসের অধিক সময় ধরে এসব বোটের নির্মাণ কাজ চললেও এ অসাধু বিট কর্মকর্তা এসব জানেন না তা কিসের আলামত!

স্থানীয়দের বিস্ময়- রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন অবৈধ টাকায় চোখ, কান এবং দায়িত্ব সবই কি অচল হয়ে যায়!

এসব বোট নির্মাণে কোটি টাকা মূল্যের যে অবৈধ মাদার ট্রি গর্জন কাঠ মওজুদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অধীন উপরোক্ত রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দায়সারা গোচর উত্তর দেন।

কর্তারা বলেন, এসব কিছু তাদের অধীন নয়। এগুলো উপকূলীয় বনবিভাগের দায়িত্বে। অথচ সব অবৈধ কাঠগুলো বনবিভাগের সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে আহরণ করেছে বনদস্যুরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে তাদের চেক পোষ্ট দিয়েই নিয়মিত পাচার হয়ে আসছে এসব অবৈধ কাঠ।

উপকূলীয় রেঞ্জের এসিএফ আনিসুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পোকখালী উপকূলীয় বন বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে এসব বোট তৈরীর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।

গোরকঘাটা উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও একই উত্তর দেন।

উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মওলার মোবাইলে বারবার কল পড়লেও রিসিভ করেন নি।

সংরক্ষিত বন রক্ষা ও অবৈধ বোট তৈরীরোধে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •