এম.এ আজিজ রাসেল :
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তূচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়া নারীদের প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন, চলাফেরায় স্বাধীনতা, বিভিন্ন সহায়তা কর্মকান্ডে অংশগ্রহন ও আইনী সুরক্ষা এবং সেবা গ্রহণে বাধাঁ নারী উন্নয়নে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
সোমবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পে ওমেন মার্কেটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস—২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি)—এর কার্যালয়, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিওএফপি), ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এর সহায়তায় ইউএন ওমেন, এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ”করোনাকালে নারী নেতৃত্বে, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব।”
হাসিনা আকতার হক তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রতিকার ও আইনি সহায়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া বর্তমান বাস্তবতায় রোহিঙ্গা নারী নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আমরা বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর‌্যোগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ও ক্যাম্প ইনচার্জ মুশফিকুল আলম হালিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল অফিসার শফিক উল্লাহ শফিক, ডব্লিওএফপির ডেপুটি ইমার্জেন্সি কো—অর্ডিনেটর সুদীপ জোসি, ইন্টার সেক্টর কো—অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)—এর সিনিয়র কো—অর্ডিনেটর নিকল ইপটিং, ব্র্যাকের এইচসিএমপি—এর আওতাধীন জেন্ডার বেইজড ভায়োলেইন্স (জিবিভি)—এর টেকনিক্যাল হেড হাসনে আরা বেগমসহ স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।
কক্সবাজারের ইউএন উইমেন সাব—অফিসের প্রধান ফ্লোরা ম্যাকুলা তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদেরকে একটি স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে একে অপরকে সহায়তা করার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি সমাজের অগ্রগতির জন্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সামাজিক মূল্যবোধ বদলাতে নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন। তিনি মহামারী চলাকালীন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য সহায়তার জন্য রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং মহিলা নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
মুশফিকুল আলম হালিম বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিবিরে নারী সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা আমাদের জন্য উদ্বেগের ব্যাপার। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিংও বটে। এরকম ঘটনা ঘটলে নির্যাতিত নারী বা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা যাতে অতি দ্রুত ক্যাম্প অফিসে রিপোর্ট করেন আমি সে আহবান জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠান শেষে করোনাকালীন জনসচেতনতায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ২০ জন নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া নারী দিবস উপলক্ষে ক্যাম্প—৫ এ স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসানো হয় মেলা। মেলায় প্রায় ২৮টি স্টল শোভা পায়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইএসসিজি,২০১৭—এর তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৮,৩০,৯৮৩ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে যার মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী ও মেয়ে শিশু এবং ৫৫ শতাংশ বয়সসীমা ১৮—৫৯ বছরের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে নারী ও মেয়ে শিশুদের সর্বাধিক ঝুঁকি, বৈষম্য এবং সহিংসতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের সহযোগিতায় সকল উন্নয়ন সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •