cbn  

আলমগীর মাহমুদ

কালু বদ্দা। কক্সবাজার বি,ডি,আর ক্যাম্প এলাকায় সৈয়দ মুজতবা আলীর আফগানিস্তানের কাবুল শহরে প্রবাসবন্ধু আবদুর রহমানের মতই আমার একজন। দৈনিক শ্রম বিক্রি করে। টানাহেঁচড়ায় সংসার চালায়।

প্রতিদিন সকালে আমারে দোকানের গরম ডিম পরটা চা’য়ের সাথে দেখা করিয়ে আলাপে রয়, হাঁটা চলায় ! কইতে রয় সুখ দুখের গাঁথা। পথে কাউকে রেখে আসলে যে আবহ সে আবহে। তার যে কাজ খোঁজতে হয় ভোরে..!

সাগরে ঝাউগাছ শেকড় শুদ্ধ উঠে যায়, ভেঙ্গে যাচ্ছে বালির চর, জমছে না বালিয়াড়ি, সাগরের এমন ভাঙনে রুক্ষমূর্তিতে রাগত প্রকৃতি যেন বেজার, প্রতিশোধ পরায়ন।

মায়ানমার বাংলাদেশ সীমানায় যে আলীয়ং এর পাহাড় বলে ভালুকিয়ার দৃষ্টি নন্দন প্রকৃতির ভূমি থেকে ধরা দিত সে আলীদং সালীদং পাহাড়েও ভাঙ্গন ধরেছে। যে দৃশ্য ছেলেবেলা থেকে দৃষ্টি সীমানায় আসেনি একবারও।

যারা পরিবেশ বিজ্ঞান, ভূগোল, ইকোলজি নিয়ে পড়েছে। তাঁদের আলাপে এসেছে প্রকৃতিকে আমাদের অত্যাচারের ফসল এটি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সাগর বক্ষে নব্যতা কমে যাওয়া। গ্রীনহাউজ ইফেক্ট, আণবিক এবং প্রাকৃতিক বর্জ্যে ধরাকে উত্যক্ত করার ফসল।

অপরাধ পাপ প্রায়শ্চিত্তে কোন কর্মটি বাদ দিতে হবে আমায়, গুরুত্ব বিচারে তার এক,দুই,তিন সিরিয়াল করি। প্রতিবছর নববর্ষের প্রথম দিনে একটি বদ অভ্যাস ত্যাগের র্চ্চা শপথ নিই।

এক নং সিরিয়ালে প্রকৃতিকে নস্যাৎ করতে মাটির উর্বরতা বিনষ্টে, আগামী প্রজন্মের রিজিক ধ্বংসে, ড্রেনিজ সিষ্টেম বর্ষায় জলাবন্ধতা সৃষ্টিতে, যে কাজটি আমারে দিয়ে হরহামেশাই হচ্ছে বাজার থেকে আনা পলেথিন খিছ, খালি প্লাষ্টিক বোতল , মৃতবিবেকওয়ালার মতো যত্রতত্র ছূঁড়ে মারা।

কেউ শিখিয়ে কইলে ‘মহারাগে কইছি তর চিন্তা তুই কর পন্না ন শিখাইছ!

বিশের/২০ প্রথমদিন। বাড়ীস্থ যে পলেথিন, প্লাষ্টিক পণ্যের উচ্ছিষ্ট ক’দিন আগে থেকেই জমাতে থাকি, একটা খালি টিনের টুকরো জোগাড় করে বিষয়টা নান্দনিকতা দিতে ঝাঁল মুরির আয়োজন করি।

প্রজন্ম মহাধুমধামে। খাবার শুরুর আগে টিন বিছিয়ে তার উপর সমস্ত পলেথিন বর্জ্য ঢেলে পেপার ছিড়ে পরতে পরতে ঢুকিয়ে সবাইরে কই, পলেথিন মাটিতে গলে না। ভাবতো এই পলেথিনগুলোর ভবিষ্যত কর্ম কি? সবাই এক এক করে যখন আসল জায়গায়! তখনই জিজ্ঞেস করি কি করা যায়?

…জ্বালতে হবে। তখনই আমি শিখিয়ে দিলাম নিয়ত রাখবি, আল্লাহ তোমার উপহারের পৃথিবী শত,হাজার বছর পরের প্রজন্মের উপকারে ব্যবহার উপযোগী রাখতে আমার এই কর্ম।… কাজটি হবে পূর্ণ্যের।

জ্বেলে দিতেই তারা কইল “চিন্তাটা খারাপ না” আজ থেকে যার ব্যবহারে যাহ — ছূঁড়া নয়, জ্বালাব তাহ”…শ্লোগান হউক।
চট্টগ্রাম বাসায় জ্বালাতে না পারলেও নির্দিষ্ট ডাষ্টবিনে রেখে দিব। সেক্ষেত্রে “যারটা তে –রাখি বা জ্বালি সে” শ্লোগানে!

আমারটা ক’দিন পর পর কালু বদ্দারে দিয়ে সকালবেলা জ্বালাই। আজ সকালবেলা কালুবদ্দা বেশ আফসোসে কইল “,আমারটাও আমি জ্বালাই, আর কেউ ভাতের উচ্ছিষ্ট নিয়ে সামনের নালায় ফেলে যায় পলেথিন ”

…” সবাই যদি উপোস থেকেও বুঝত, এমন দুখে পড়তাম না আমরা, আগে বেশী বুঝত ঘরের মুরুব্বীরা এখন সবাই বেশী বুঝনে সমস্যায়!

আগে একশ দেড়শ বছরে বুঝে, না বুঝে আমাদের পূর্বপুরুষদের দুনিয়া ব্যবহারে যে ক্ষতি হয়েছে এখন এক বছরেই তাহ করছি আমরা। অজ্ঞতায়, লাভে, লোভে ।

পাঁচতলায় , গদিতেও ঘুমাতে পারে না যারা, ধ্বংসের মুলতারা, আমরাও আছি, তবে অতটা নয়। সবাইর যদি বুঝনত আইতো—“আমরা পৃথিবীর ব্যবহারকারী মালীক নই!”

লেখকঃ বিভাগীয় প্রধান। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, উখিয়া কলেজ কক্সবাজার।
alamgir83cox@gmail. com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •