তারেকুর রহমানঃ
টেকনাফের শামলাপুর বাজারে ৩টি পাবলিক টয়লেট থাকলেও ২টি টয়লেটের বেহাল দশা। অন্যটি মাঝেমধ্যে থাকে তালাবদ্ধ। অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, আলো-ছিটকিনি নেই, অপরিস্কার বদনা ও অপর্যাপ্ত পানির কারণে নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই উন্মুক্ত জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম সারছেন বাজারমুখী ভাসমান লোকজন।

খাবার হোটেলের পেছনে ময়লার স্তূপে টয়লেট ব্যবহার করেন নিরুপায় হয়ে। হোটেল মালিকেরা কোনোমতে প্রস্রাবের জায়গা করে দিলে সেখানে পায়খানা সেরে চলে যায় অনেকে। যে প্রস্রাবখানাগুলো রয়েছে সেখানে রীতিমতো নাকে রুমাল চেপে কোন রকমে কাজ শেষ করতে হয়। যেভাবে ময়লা জমে আছে তাতে এডিস মশার লার্ভা ও ক্ষতিকর জীবাণু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, শামলাপুর বাজারে প্রায় ৭০০ দোকানে ব্যবসায়ে জড়িত প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। সপ্তাহিক বাজার শনিবার ও মঙ্গলবার পার্শ্ববর্তী হোয়াইক্যং এবং উখিয়ার জালিয়াপালং থেকে ব্যবসায়ীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই বাজারে ব্যবসা করতে আসে। চাহিদার তুলনায় শামলাপুর বাজারে সরকারি পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। তারপরও যা আছে সেসব পাবলিক টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী।

শামলাপুর বাজারের পাবলিক টয়লেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ১টি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অর্থায়নে নির্মিত ২টি টয়লেটের মধ্যে হোয়াইক্যং সড়ক বাজারের উত্তরে রাইচমিলের পাশে যে টয়লেটটি রয়েছে সেটি ব্যবহারেও লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। টয়লেট সারতে পাহারাদার র্নিধারিত মূল্যে টাকা আদায় করলেও নানা অসুবিধা দেখা যায়।
তাছাড়া বাজারের ভেতরে মহিলা মাকের্টের পাবলিক টয়লেট ও মনখালী সড়ক জুহুর আলমের ডিজেল দোকানের পাশের এনজিও প্রদত্ত পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহারের অযোগ্য। টয়লেটগুলোর কোনোটির দরজা নেই, আবার দরজা থাকলেও ছিটকিনি নেই। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অপরিষ্কার, ময়লা, দুর্গন্ধ, ভাঙা ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ কমোড, ইঁদুর-তেলাপোকার বসবাস ও ময়লা পানি জমে থাকে। নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। মহিলা মার্কেটের সরকারি পাবলিক টয়লেটটির ভেতরে কয়েকটি গ্যাসহীন সিলিন্ডার ও দোকানের পরিত্যক্ত মালামাল রাখতে দেখা যায়।

পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট না থাকায় পথচারী, হকার, রিকশাচালক, ভিক্ষুক ও ভাসমান মানুষ বিভিন্ন উন্মুক্ত জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম সারছেন।

ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘টয়লেটের জরুরী মুহুর্তে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হয়। এত বড় বাজারে সামান্য প্রস্রাব সারার মতোও ব্যবস্থা নেই। যা আছে সব নষ্ট। অনেক লোকজন ব্যবসায়ের কাজে বাজারে আসে। জরুরী মুহুর্তে তাদের অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়।’

শামলাপুর বাজার সমিতির সভাপতি মাস্টার আবুল মনজুর বলেন, ‘শামলাপুর বাজার বহুল কর্মব্যস্তময় বাজার। প্রায় ৭০০ দোকান রয়েছে এই বাজারে। দোকানের মালিক-কর্মচারী এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে আসা লোকজনের জন্য এখন ১টি মাত্র পাবলিক টয়লেট রয়েছে যা খুবই দুঃখজনক। অনুপযোগী টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে পারলে বাজারমুখী মানুষের ভোগান্তি ও কষ্ট লাঘব হবে।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘শামলাপুর বাজারে একটি ছাড়া অন্য দুটি পাবলিক টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী, এটা সত্য। তবে আমি অনেক জায়গায় পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছি। বাজারের ব্যবহার অযোগ্য টয়লেটগুলোর ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংস্কারের মাধ্যমে টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •